বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও গুলি ছোড়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক এমপি জান্নাত আরা হেনরির অনুসারী হোসেন আলী কমিশনারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন বাড্ডার যুবলীগ নেতা মিজান ও চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের নেতা হাজি মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে রাডো সিরাজ। গত শুক্রবার মধ্যরাত রাজধানীর শেরেবাংলা নগর, পূর্ব বাড্ডা ও চকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-২ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেরেবাংলা নগর এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ও সদ্য সাবেক কমিশনার হোসেন আলীকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-২ এবং র্যাব-১২। র্যাব জানায়, তিনি সিরাজগঞ্জ সদর থানার করা হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি।
বাড্ডায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার : গত শুক্রবার মধ্যরাতে পূর্ব বাড্ডা ইউসুফ স্কুলসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাড্ডা থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, গত ২০ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উত্তর বাড্ডার এএমজি হাসপাতালের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এমদাদুল নামে এক ব্যক্তি। ওই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নস্যাৎ করার উদ্দেশে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা নির্বিচারে গুলি চালায়। তাদের গুলিতে এমদাদুল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় গত ৯ সেপ্টেম্বর এমদাদুলের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। এ মামলায় গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চকবাজারে আ.লীগ নেতা রাডো সিরাজ গ্রেপ্তার : পুরান ঢাকায় অভিযান চালিয়ে চকবাজার থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হাজি মো. সিরাজুল ইসলাম ওরফে রাডো সিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি চানখাঁরপুলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাকিব হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
