রান্না ঘরে সন্ধ্যার ভাত রান্না করছিলেন গৃহবধু কৃঞ্চা রানী। উঠান থেকে থেকে বারবার তাকে ডাকছিলেন শিশু সন্তান। কৃঞ্চা রানীর ভাত রান্না করা অবস্থায় বসতঘরের মাটি সরে যাচ্ছিল নদীরগর্ভে। রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে দৌঁড়ে ঘরে ডুকতে গিয়ে দেখেন তার বসতঘরের অর্ধেক ছোট ফেনী নদীরগর্ভে তলিয়ে গেছে।
কৃঞ্চারানী কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, মরার নদী ভাঙন আমাগোরে বসতভিটে ছাড়া করেছে।
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আউরারখিল গ্রাম ও কাজিরহাট সংলগ্ন এলাকায় নদী ভাঙন পরিদর্শনকালে এভাবেই আহাজারি করছিলেন জেলেপাড়ার কৃঞ্চা রানী। সম্প্রতি ছোট ফেনী নদীতে ভাঙনে তার বসত ভিটে সহ আরো একাধিক পরিবারের বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীনের আশঙ্কায় রয়েছে জেলে পাড়ার আরও ১৬ পরিবার।
কৃঞ্চা রানী বলেন, বংশ পরম্পরায় আমরা ৭০ বছর এই এলাকায় বসবাস করছি। ১০ বছর আগে নদী ভাঙনে আমাদের বসতভিটে হারিয়ে সড়কের পাশেই নতুন করে বসতি স্থাপন করি। ২০১৪ সালে সোনাগাজী উপজেলা সংলগ্ন মুসাপুর ক্লোজার ড্যাম নির্মাণ করা হলে নদী ভাঙন বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি বন্যার কবলে মুসাপুর ক্লোজার নদীগর্ভে তলিয়ে গেলে জোয়ারের পানিতে উপকূল প্লাবিত হয়ে ফের ভাঙন শুরু হয়। নদী ভাঙনে আমাদের বসতঘর সহ জেলে পাড়ার আরো কয়েক পরিবারের বসতঘর নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। নতুন করে বসতভিটে তৈরী করার মতো আমাদের জায়গা জমিন নেই । দ্রুততম সময়ের মধ্যে নদী ভাঙন বন্ধ করতে না পারলে ছোট ফেনী নদীর কাজিরহাট সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
একই সুরে আক্ষেপ করে জেলেপাড়ার অরুন দাস বলেন, ছোট ফেনী নদীতে জোয়ারের পানির তোড়ে কাজিরহাট থেকে বাংলাবাজার পাকা সড়কের প্রায় ২০০ মিটার একেবারে নদীতে বিলীন হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে বাজারের উত্তরাংশে বসবাস করা মানুষজন একমাত্র রাস্তাটি হারিয়ে বিচ্ছিন্ন অবস্থার মধ্যে পড়েছেন একইভাবে ওই এলাকার স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার বিষয়টিও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সোনাগাজী ও পার্শ্ববর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কৃষি নির্ভর ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয়রা বলেন,গত কয়েকদিন আগে ছোট ফেনী নদীতে জোয়ারের পানির স্রোত বেড়ে যায়, একই সময়ে ভারী বর্ষণ শুরু হয়। একপর্যায়ে চোখের পলকে পাকা সড়কের ২০০ মিটার নদীগর্ভে হারিয়ে যায়।
ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে দেখা গেছে, গেল দেড় মাসে ছোট ফেনী নদীর চরছান্দিয়া, চরদরবেশ, বগাদানা ও মজলিশপুর ইউনিয়নের উপকূলীয় অংশে অন্তত ৫০-৬০টি বাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে বাস্তুহারা হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক পরিবার। নদী ভাঙনের শিকার হয়ে বাস্তুহারা অনেক পরিবারের জায়গা জমিন না থাকায় যাযাবরের মতো জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী জনিম উদ্দিন কাঞ্চন বলেন, ভাঙন রোধে ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ড সামান্য বরাদ্দ প্রদান করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধিদের খামখেয়ালি আচরণে নদী ভাঙন রোধে যুতসই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। ছোট ফেনী নদীর মুসাপুর থেকে শুরু হয়ে সোনাগাজী ও দাগুনভুইয়া উপজেলা পর্যন্ত অন্তত ২০ টি স্থানে নদীর বাঁক রয়েছে। ড্রেজিং এর মাধ্যমে ওই বাঁক গুলো সোজা করা হলে ও ভেঙে যাওয়া মুসাপুর ক্লোজার ড্যাম এর নিকটে নতুন করে একটি রেগুলেটর নির্মাণ করা হলেই বিস্তৃর্ণ জনপদ রক্ষা পাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙনরোধে পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থার বিষয়টি জোরালোভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হবে। নদীর পেটে তলিয়ে যাওয়া পাকা সড়কটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় নির্মাণের ব্যবস্থা করতে উপজেলা ও জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সারজিস-হাসনাতকে ক্ষমা চাইতে বলল এলডিপি
বাংলাদেশে আরও বেশি সৌদি বিনিয়োগ চান ড. ইউনূস
দোসর তো অনেকেই আছে, রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এত ব্যস্ত কেন
৮ কোটি টাকা না দেওয়ায় স্বামীকে খুন করে পোড়াল দ্বিতীয় স্ত্রী
গণভবনের পুকুরপাড়ে কী করছেন দুই উপদেষ্টা