লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তফা তারেক ইকবাল ওরফে রবিন পাটওয়ারী মৃত্যুর ঘটনায় চার সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ইত্তেফাকের সাংবাদিক জাকির হোসেন মোস্তান, যায়যায়দিনের বেলায়েত হোসেন বাচ্চু, সমকালের জাকির হোসেন সুমন ও মানবকণ্ঠের শাখায়াত হোসেন জাহাঙ্গীর। তারা চারজনই রামগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজাতে প্রেরণ করা হয়।
জানা যায়, রবিবার বিকেলে রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা মোস্তফা তারেক ইকবাল ওরফে রবিন পাটওয়ারী। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় সোমবার সকালে নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার বাদী হয়ে হুমকি,টাকা দাবি ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে এই চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রামগঞ্জ থানায় এই মামলা দায়ের করেন। এর আগে রাতেই তাদের চারজনকে আটক করে পুলিশ। পরে এই মামলায় চার সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
নিহত ব্যাংক কর্মকর্তা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের রামগঞ্জ শাখায় জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার মোস্তফা কামালের ছেলে।
একটি সূত্রে জানা যায়, গত এক বছর ধরে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের রামগঞ্জ শাখার ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎতের ঘটনায় তদন্ত চলছে। ওই ঘটনার তথ্য সংগ্রহের জন্য ব্যাংক ম্যানেজার রাহিমা বেগমের কাছে যায় গ্রেপ্তারকৃত সাংবাদিকরা। কিন্তু রাহিমা বেগম ট্রেনিংয়ে থাকায় দায়িত্বে ছিলেন কর্মকর্তা মোস্তফা তারেক ইকবাল রবিন পাটওয়ারী। এ সময় টাকা আত্মসাৎতের বিষয়ে জানতে চাওয়ার এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের সাথে মোস্তফা তারেক ইকবালের কথাকাটাকাটি হয়। এরপর ব্যাংক থেকে সাংবাদিকরা চলে যায়। কিছুক্ষণ পর ব্যাংক থেকে ওই কর্মকতা বাহির হয়ে উপজেলা নির্মানাধীন ভবনের ছাদে উঠে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক ম্যানেজার রহিমা বেগমও এ ঘটনার সাথে জড়িত বলে দাবি করেন নিহতের স্বজনরা।
নিহত ব্যাংক কর্মকর্তার স্বজনরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মোস্তফা তারেক ইকবাল ওরফে রবিন পাটওয়ারী পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত চার সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছিল। ঘটনার দিনও দাবিকৃত টাকার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে তাদের চাপ সইতে না পেরে বহুতল ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনার জন্য অভিযুক্তরা দায় এড়াতে পারে না। তাদের হুমকি-ধুমকির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন নিহতের স্ত্রী।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাসার বলেন, হুমকি-ধুমকি ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় চার সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে সকালে নিহতের স্ত্রী ওই চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে হুমকি-ধুমকির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে।
সাভারে শ্রমিকদের কর্মবিরতি পালন, বন্ধ ৫ কারখানা
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত
চোখের পলকে নদীতে বিলীন ঘরবাড়ি-পাকা সড়ক
সারজিস-হাসনাতকে ক্ষমা চাইতে বলল এলডিপি