সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ করেছে চীন, মিয়ানমারে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কা

  • সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধের কারণ জানায়নি চীন
  • ঢুকছে না কোনো মানুষ ও পণ্য
  • চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের বাণিজ্য ঘাটতি ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি 
আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৪, ০৯:৫৪ পিএম

মিয়ানমারের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্যসহ সব সীমান্ত পোস্ট বন্ধ করে দিচ্ছে চীন। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) থেকে এ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বেইজিং। এমনটি জানিয়েছে দেশটির ব্যবসায়ী ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা।

মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর খবরে বলা হয়, সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধের কারণ জানায়নি চীন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গত ১৮ অক্টোবর মান্দালয়ে চীনা কনস্যুলেটে হামলা এবং চীন সীমান্তের কাছে জান্তা ও কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মির (কেআইএ) মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক গ্রুপের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য ইরাবতীকে বলেন, ‘সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধের ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।’ ইউনিয়ন অব মিয়ানমার ফেডারেশন অব চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাহী কমিটির এই সদস্য সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমরা পণ্য ও সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা করছি এবং এতে দ্রুত গতিতে দাম বাড়তে পারে।’

মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত ১৯ অক্টোবর কাচিন রাজ্যের ওয়েইংমাও টাউনশিপের কানপাইকতি সীমান্তের বিপরীতে চীন তাদের সীমান্ত বাণিজ্য চৌকিটি বন্ধ করে দেয়। এতে মঙ্গলবার কাচিন ও শান রাজ্যের আরও চারটি সরকারি ক্রসিংয়ে সীমান্ত গেট বন্ধ করা শুরু করে। কাচিন রাজ্যের মোমাউক টাউনশিপের লুয়েগেল শহরে এবং উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় শান রাজ্যের মিউজ, চিনশ্বেহাও ও মংলা (কেংতুং) শহরে তাদের অবস্থান রয়েছে।

চীন মিয়ানমারের সঙ্গে সব অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত ক্রসিংও বন্ধ করে দিয়েছে, যার মধ্যে কমপক্ষে সাতটি প্রধান সীমান্ত রয়েছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কোনো ক্রসিংয়ে সীমান্ত পেরিয়ে মানুষ ও মালামাল আর ঢুকছে না।

মিয়ানমার আমদানির জন্য চীনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে। চীন মিয়ানমারকে তার বেশিরভাগ প্রয়োজনীয় পণ্য (ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি এবং বিভিন্ন পণ্য থেকে শুরু করে সাবানের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য) সরবরাহ করে।

চীন সীমান্তে মিয়ানমারের পাঁচটি সীমান্ত বাণিজ্য পোস্ট রয়েছে। এগুলো হলো শান রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের মিউজ সীমান্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং চিনশ্বেহাও ও মংলা সীমান্ত বাণিজ্য চৌকি। আরও দু’টি কাচিন রাজ্যে। এগুলো লুগেল ও কানপাইতি সীমান্ত বাণিজ্য চৌকি।

গত মার্চ মাস থেকে কেআইএ’র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে লুয়েগেল। মিউজ বাণিজ্য অঞ্চলে পাঁচটি অফিসিয়াল গেট রয়েছে। সামরিক জান্তা নানতাও এবং সিনফিউ নামে মাত্র দু’টির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। গত বছরের শেষ দিকে ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর থেকে বাকি তিনটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সামরিক জান্তা পূর্বাঞ্চলীয় শান রাজ্যের মংলা টাউনশিপের বাণিজ্য পোস্ট নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু লাউক্কাই টাউনশিপের চিনশওয়েহাও শহরের সীমান্ত বাণিজ্য পোস্টটি মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। মঙ্গলবার চীনের দিক থেকে উভয় পোস্টে বাণিজ্য বন্ধ ছিল।

সম্প্রতি জান্তা ঘাঁটি ও চীন সীমান্তবর্তী একটি শহর দখলের পর মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য চৌকি বন্ধ করে দেয় চীন। গত ১৮ অক্টোবর কেআইএ সীমান্তবর্তী শহর পাংওয়ার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং সোমবার কানপাইকটির কাছে বর্ডার গার্ড ফোর্স ব্যাটালিয়ন ১০০৩ এর সদর দফতর দখল করে।

ইয়াঙ্গুনের এক ব্যবসায়ী জানান, গত বছর উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চীনের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও জান্তার সংঘাতে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং জটিল কর পদ্ধতির কারণে ব্যবসায়ীদের মুসে সীমান্ত বাণিজ্য অঞ্চল থেকে বিকল্প এবং অনানুষ্ঠানিক সীমান্ত ক্রসিংয়ের দিকে তাদের নির্ভরতা সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

জাতিসংঘের কমট্রেড ডাটাবেজ অনুসারে, গত অর্থবছরে চীনে মিয়ানমারের ৩.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয়। যেখানে একই সময়ে মিয়ানমারে চীন রপ্তানি করে ১১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে চীনের সঙ্গে মিয়ানমারের ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি ছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত