মাদকের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধে ডেথ স্কোয়াড রাখার কথা স্বীকার করেছেন ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে। গত সোমবার তার বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যার তদন্তের শুনানিতে উপস্থিত হয়ে এই স্বীকারোক্তি দেন তিনি। ফিলিপাইনে মাদক বিরোধী অভিযানে প্রাণঘাতী দলটি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নয়, বরং গ্যাংস্টারদের নিয়ে গঠন করা হয়েছিল বলে জানায় দুতার্তে।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে ফিলিপাইনের অন্যতম বড় দাভাও নগরীর মেয়র ছিলেন দুতার্তে। মেয়র থাকাকালে তিনি অপরাধ দমনে সহিংস, বিচারবহির্ভূত পন্থা অবলম্বন করেছিলেন। এ বিষয়ে পরে প্রকাশ্যেই কথা বলেন তিনি। এমনকি ২০১৬ সালের নির্বাচন আগে প্রচারে তিনি বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হলে একইভাবে দেশ জুড়ে অপরাধ দমনের উদ্যোগ নেবেন। সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন তিনি। এরপর দেশ জুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে কথিত যুদ্ধে বিতর্কিত পুলিশি অভিযানে হাজারো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
সিনেটের তদন্তের শুনানিতে দুতার্তে তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, আমার নীতিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না। কারণ, আমি ক্ষমা চাই না। কোনো অজুহাতও দিই না। আমার যা করার ছিল, আমি তা করেছি। আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন, আমি আমার দেশের জন্য এটা করেছি। আমি মাদককে ঘৃণা করি। সেই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পাল্টা আক্রমণ করতে উৎসাহিতও করেছিলেন বলে জানান তিনি। দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি পুলিশ প্রধানদের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমার সাতজনের একটি ডেথ স্কোয়াড ছিল। কিন্তু তারা পুলিশ নয়, গ্যাংস্টার ছিল। শুনানিতে নিজের পক্ষে সাফাইও গান দুতার্তে। দাবি করেন, প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার পর অনেক অপরাধী আবার তাদের অবৈধ কার্যকলাপ শুরু করেছেন।
২০২২ সালে দুতার্তের প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর তার মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে তদন্ত শুরু হয়। ফিলিপাইন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দুতার্তের মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পুলিশ ও অজ্ঞাত আততায়ীর হাতে ৬ হাজার ২৫২ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
