সিলেট কৃষি বিশশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক পদত্যাগ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সিকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক আলিমুল ইসলামের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা শেষে আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘আমাদের ৮ দফা দাবি ছিল, এরমধ্যে ৭টি ছিল অ্যাকাডেমিক বিভিন্ন বিষয়ে এবং অন্যটি ছিল প্রক্টর, রেজিস্ট্রার ও জনসংযোগ কর্মকর্তার পদত্যাগ। প্রক্টর পদত্যাগ করায় এবং অন্য দাবিগুলো দ্রুত পূরণের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা যথারীতি চালু হবে।’
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গত রবিবার থেকে টানা আন্দোলন করে যাচ্ছেন সিকৃবি শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবারও বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। সকাল ৯টা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দাবি বাস্তবায়নে স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা দেড়টার দিকে তারা প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে দেন। এতে উপাচার্যসহ অর্ধশত শিক্ষক-কর্মকর্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তালাবদ্ধ কার্যালয়ের ফটকে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিকেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন উপাচার্য এবং সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় অচলাবস্থার অবসান হয়েছে।
সিকৃবি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে ছাত্রদলের টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় কিছু বহিরাগত এসে ছাত্রদলের পক্ষ নেয়। এতে ১০-১৫ জন আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়ে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। গত রবিবার বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রশাসনিক ভবনে তালা দেন শিক্ষার্থীরা। গত সোমবারও আন্দোলন অব্যাহত ছিল। ওইদিন শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় বসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর বিকেলে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান।
শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের ৮ দফা দাবির মধ্যে ৭টি দাবি অ্যাকাডেমিক বিভিন্ন বিষয়ে। আর বাকি একটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ও জনসংযোগ কর্মকর্তার পদত্যাগ।
