আগাম ভোটে নানা অঘটন

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ০৪:৪১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি এক সপ্তাহেরও কম সময়। এরই মধ্যে আসন্ন নির্বাচনের ভোট নিয়ে উন্মাদনা দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে। আগামী ৫ নভেম্বর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে তার আগেই বিভিন্ন রাজ্যে আগাম ভোটে ভোটারদের অংশগ্রহণের হার ছিল চোখে পড়ার মতো। এর মধ্যেই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রায় সাড়ে চার কোটি ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তবে আগাম ভোটে কারচুপি ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে দেশটিতে।

গত মঙ্গলবার ব্যালট চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ম্যাডিসন কাউন্টির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান দলের সাবেক এক প্রার্থীকে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত সাবেক রিপাবলিকান নেতার নাম ল্যারি স্যাভেজ। ৫১ বছর বয়সী এই রিপাবলিকানের বিরুদ্ধে দুটি ব্যালট চুরির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের পুলিশ বলেছে, গত ৩ অক্টোবর ভোট দেওয়ার চারটি যন্ত্রের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। এ সময় পরীক্ষার জন্য আনা ১৩৬ প্রার্থীর ব্যালট থেকে দুটি ব্যালট নিখোঁজ হয়ে যায়।

পুলিশ বলেছে, নজরদারির কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ব্যালট পরীক্ষার পর ল্যারি স্যাভেজ দুটি ব্যালট ভাঁজ করে প্যান্টের পকেটে ঢোকাচ্ছেন। এ ঘটনায় স্যাভেজের বিরুদ্ধে একটি তল্লাশি পরোয়ানা জারি করে পুলিশ। পরে অভিযুক্ত ল্যারির গাড়ি থেকে নিখোঁজ ব্যালটগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্য নিন্দা জানিয়েছে ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান পার্টি। এক বিবৃতিতে দলটির জনসংযোগ পরিচালক গ্রিফিন রিড বলেন, আমরা নির্বাচনে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক হস্তক্ষেপের নিন্দা জানাই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি। ল্যারির বিরুদ্ধে ব্যালট সরানো এবং নষ্ট করার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে তার পক্ষে কোনো আইনজীবীকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। গ্রেপ্তারের পর মুচলেকা নিয়ে ল্যারিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ভোট জালিয়াতির ঘটনা বিরল। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ আনেন ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো ধরনের তথ্য-প্রমাণ দিতে না পারায় রিপাবলিকানদের করা একাধিক মামলা বিভিন্ন আদালতে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন এবং ওরেগন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট গ্রহণের জন্য রাখা দুটি ব্যালট ড্রপ বাক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কর্র্তৃপক্ষের ধারণা, দুটি ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র আছে। সোমবার ভোরে ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে একটি ড্রপ বাক্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পর ওয়াশিংটনের ভ্যানক্যুভারে আরেকটি ড্রপ বাক্সে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, অগ্নিসংযোগে ব্যবহার করা যন্ত্রগুলো ড্রপ বাক্সের বাইরে সংযুক্ত ছিল। ঘটনাটি তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টির নির্বাচিত নিরীক্ষক গ্রেগ কিমসি এটিকে গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

দুটি ড্রপ বাক্সেই আগুন প্রতিরোধী ব্যবস্থা সংযুক্ত ছিল। তবে ভ্যানক্যুভারের বাক্সটি ঠিকঠাক কাজ করেনি বলে জানান কিমসি। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শত শত ব্যালট নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কর্র্তৃপক্ষ। দুটি অগ্নিসংযোগের ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র আছে, তা প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট উপকরণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচনী কর্মকর্তারা। এর আগে আগাম ভোট শুরুর পর গত ৮ অক্টোবর ভ্যানক্যুভারে আলাদা একটি ব্যালট বাক্সে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। তবে ওই ঘটনায় কোনো ব্যালট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে এসব ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনা আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ব্যালট বাক্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনার সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকানরা। তবে এ বিষয়ে ২০২০ সালের নির্বাচনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বকেই সামনে নিয়ে এসেছেন তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত