কানাডায় খালিস্তানপন্থি নেতা হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় এজেন্টদের সম্পৃক্ততার অভিযোগে সম্প্রতি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। এ ঘটনায় কানাডার পুলিশ ভারতীয় কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার পর হাইকমিশনারসহ ছয়জন করে কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে দুই দেশই। এবার শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হত্যা নিয়ে আবারও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছে কানাডা। গত মঙ্গলবার দেশটির সরকার অভিযোগ করেছে, কানাডার মাটিতে সংঘটিত ওই হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
কানাডার আগের অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে ভারত সরকার তা বাতিল করে দিয়েছিল। খালিস্তানপন্থি আন্দোলনের শিখ নেতাকে হত্যা বা তাদের হত্যাচেষ্টায় কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে তারা। এসব ঘটনায় অমিত শাহের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রথম সামনে নিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। কানাডার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মরিসনের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, কানাডায় অবস্থানরত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ও ভয় দেখানোর পরিকল্পনায় ভারত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা জড়িত।
পরে কানাডার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মরিসন এক সংসদীয় প্যানেলে বলেন, আমাকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক সাংবাদিক ফোন দিয়েছিলেন। তিনি আমাকে প্রশ্ন করেন, হত্যার পরিকল্পনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের একজন অমিত শাহ কি না। আমি তাকে নিশ্চিত করেছি, তিনিই সেই ব্যক্তি। তবে মরিসন এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি। এমনকি এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণও উপস্থাপন করেননি তিনি। কানাডায় ভারতীয় হাই কমিশনারের কার্যালয় ও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ভারতের ভূখণ্ডে খালিস্তান নামে একটি স্বাধীন আবাসভূমি প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করে চলেছে। তবে ভারত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করে থাকে এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য তাদের হুমকি বলে অভিহিত করে থাকে। ১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকে ভারতে একটি বিদ্রোহে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ দমন করতে অমৃতসরে শিখদের সবচেয়ে পবিত্র স্থান ‘স্বর্ণ মন্দিরে’ নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযানের নির্দেশ দেন। এই ঘটনার পর ১৯৮৪ সালে দিল্লি ও অন্যান্য জায়গায় শিখবিরোধী বিক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে। সংঘাতে উভয় পক্ষের কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন।
২০২৩ সালে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদ্বীপ সিং নিজ্জর হত্যায় যোগসাজশের অভিযোগে চলতি মাসের মাঝামাঝিতে ছয়জন ভারতীয় কূটনীতিবিদকে বহিষ্কার করে কানাডার সরকার।
