লেবাননের রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান হিসেবে নাইম কাশেমের নাম ঘোষণা হয়েছে। নাইম কাশেমকে হিজবুল্লাহর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগের পর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইসরায়েল। হিজবুল্লাহর যাত্রা শুরুর সময় থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এবার হিজবুল্লাহর নতুন নেতার প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছে তেল আবিব। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছেন, নাইম কাশেমের মেয়াদ হবে ‘সাময়িক’। তিনি বেশি দিন টিকবেন না। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। গ্যালান্ট লিখেছেন, সাময়িক নিয়োগ, দীর্ঘদিনের জন্য নয়। গত সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহর তৎকালীন প্রধান হাসান নাসরাল্লাহকে হত্যা করে ইসরায়েল। এরপর তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনায় থাকা হাশেম সাফিউদ্দিনও বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন। এবার নাঈম কাশেমকেও তার পূর্বসূরিদের ভাগ্যবরণ করে নিতে হবে বলে হুমকি দিলেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ইসরায়েল সরকারের দাপ্তরিক আরবি ভাষার অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে বলা হয়, তিনি যদি তার পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, তাহলে সংগঠনটির ইতিহাসে হিজবুল্লাহপ্রধান হিসেবে তার মেয়াদ সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত হতে পারে।
এদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত মঙ্গলবার এক দিনে এই দুই জায়গায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২২০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে গাজার উত্তরাঞ্চলে ১৩২ জন ও অন্যান্য জায়গায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৭৭ জন নিহত হয়েছে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উত্তর গাজা অবরোধ করে অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। এতে উপত্যকাটির উত্তরাঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমনকি ইসরায়েলের হামলা থেকে বাদ যায়নি হাসপাতাল ও শরণার্থীশিবিরগুলোও। ফলে চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে সেখানে। উত্তরাঞ্চলে হামাসের যোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে চার ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী এ খবর নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘ঘোস্ট’ ইউনিটের এই সদস্যরা সবাই গাজার জাবালিয়া এলাকায় নিহত হন। কিছুদিন ধরে জাবালিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে হামাস যোদ্ধাদের তীব্র লড়াই চলছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মুখে নিজেদের সামরিক বাজেট তিনগুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান সরকার।
