নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসংক্রান্ত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে রুলের শুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়। আদালত এদিনের শুনানি নিয়ে রিটকারীপক্ষের আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে গত ১৯ আগস্ট রুল দেয় হাইকোর্ট। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৮ আগস্ট সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি এম. হাফিজ উদ্দিন খান, সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদসহ পাঁচজন জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি করেন। গতকাল রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া।
গত ২৯ অক্টোবর রুল সমর্থন করে আদালতকে সহায়তা করতে (ইন্টারভেনার) বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের করা আবেদন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি রুল সমর্থন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে এ মামলায় পক্ষভুক্ত হন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া বিএনপির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও জামায়াতের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা পঞ্চদশ সংশোধনীটাই বাতিল চেয়েছি। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করা যায়, শুধু সংশোধনী যদি মূল কাঠামোর পরিবর্তে আসে। এখন মূল কাঠামোর মতবাদ আসলে কী, এর পরিধিইবা কী, আইনের ব্যাখ্যা ও সংবিধানের ব্যাখ্যা কীভাবে করতে হয়, শুনানিতে এটাই বলতে চেয়েছি।’
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। একই বছরের ৩ জুলাই রাষ্ট্রপতি তাতে অনুমোদন দেন। এ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া এই সংশোধনীতে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। রিট আবেদনের যুক্তিতে বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনী সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী ছিল। কারণ, এ ধরনের অনেক সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে গণভোটের কথা বলা আছে। কিন্তু গণভোট করা হয়নি। এ সংশোধনী জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতাকে হ্রাস করে দিয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের অনেক ধারার সংশোধন অযোগ্য করেছে।
