ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার অফিস খোলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে শুধু আলোচনা হয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত প্রস্তাব (জাতিসংঘের পক্ষ থেকে) আসেনি। তবে আমরা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি।’ গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তৌহিদ হোসেন এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের অফিস খোলা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের অফিস খুলতে দিলেই সব ঠিক হয়ে যাবে এবং না দিলে কিছু হবে নাÑ এটি মনে করার কোনো কারণ নেই। খুব অল্পকিছু দেশেই তাদের অফিস আছে। আমরা দেখছি যে আমাদের প্রয়োজন আছে কি না।’
অফিস খোলার অনুমতির বিষয়ে সম্মতি-অসম্মতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্মতি ও অসম্মতি একসঙ্গে হতে পারে না। সম্মতি এবং অসম্মতির প্রশ্ন যখন আসে, তখন বুঝতে হবে যে এটি নিয়ে আলোচনা চলছে অথবা এটি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি যে দেওয়া হবে। তবে দেওয়া হবে না, এটিও বলা হয়নি। আমরা এখনো পরীক্ষা করে দেখছি।’
মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনের অফিস খোলার মধ্যে সম্পর্ক আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ দুটোর মধ্যে আমি কোনো সম্পর্ক দেখছি না। আমরা তাদের নির্দিষ্ট একটি কাজ করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সার্বিকভাবে মানবাধিকার নিয়ে একটি সমস্যা ছিল এবং এগুলোর সমাধান চাই। বিশেষ করে বর্তমান সরকার যে কাজ করছে, সেটির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মানবাধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়।’
এক মাস পর রিপোর্ট দেবে জাতিসংঘ : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত দলকে এক মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। তারাই এক মাস সময় চেয়েছিল। তাদের রিপোর্ট দিতে এক মাস সময় লাগবে।
তদন্ত দলের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তাদের বিশেষ একটি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রায় এক মাস কাজ করা হয়ে গেছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম রিপোর্ট দিতে কত দিন লাগবে এবং তিনি (ফলকার টুর্ক) জানিয়েছেন, আরও হয়তো এক মাস সময় লাগবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে ঘটনা ঘটেছে, সেটির ওপর তারা রিপোর্ট তৈরি করছে।’
কত দিন মেয়াদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট সময়। আমি বলেছি যে আমরা ওপেন-এন্ডেড। আমরা বলেছি, আপনারা যা দেখতে চান, দেখুন। আমার সঙ্গে আগে যে প্রতিনিধিদল দেখা করতে এসেছিল তাদের বলেছি, আমি বা আমার লোকজন আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে না। আপনারা স্বাধীনভাবে কাজ করেন। আপনাদের যদি কোনো প্রয়োজন লাগে, তবে আমাদের বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাবেন। তারা সহায়তা করবে।’
৮ নভেম্বর খালেদা জিয়া লন্ডনে যাচ্ছেন : উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামী ৮ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যাচ্ছেন বলে জানান এম তৌহিদ হোসেন। গতকাল এ তথ্য জানান তিনি। তিনি বলেন, ৮ নভেম্বর লন্ডন যাবেন খালেদা জিয়া। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা সহায়তায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা এবং তদারকি করছে।
