এইচপিভি টিকা নিরাপদ গুজব না ছড়ানোর আহ্বান

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:২৭ এএম

ভোলায় জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস) টিকা নেওয়া কিশোরী শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হওয়ার সঙ্গে টিকার কোনো বিরূপ প্রভাব নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বিষয়ে গুজব না ছড়ানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবনে এইচপিভি টিকা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এ কথা বলেন।

গত ২৪ অক্টোবর থেকে ঢাকা বাদে বাকি সাত বিভাগে ১০-১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু করেছে সরকার। ১৮ দিন এ টিকাদান কর্মসূচি চলবে। কর্মসূচি চলাকালেই গতকাল ভোলায় টিকা দেওয়ার সময় কিছু শিক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়ে। পরে এ ঘটনা কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকা নিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রচার হতে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে অধিদপ্তর। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঢাকা বিভাগের ১৩ জেলা ও চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রথম পর্যায়ে এইচপিভি টিকা দেওয়া হয়।

ভোলার ঘটনা ব্যাখ্যা করে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, গত মঙ্গলবার একটি কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ টিকা নেওয়ার পর দুজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাদের অসুস্থ হওয়া দেখে আরও কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে এদের সবাই সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে।

উল্লেখ্য, পাঁচজন ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হলেও কোনো টিকা নেয়নি। প্রাথমিকভাবে রোগটি ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া এই ঘটনা তদন্তে কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, (জিএসিভিএস) নয়টি আর্টিকেল পেপার, রোগ নিরীক্ষণ কর্মসূচির রিপোর্ট এবং রোগতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে টিকার কার্যকারিতা এবং গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। ডেনমার্ক, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশে গবেষণা করে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এইচপিভি টিকার সঙ্গে গুরুতর কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক নেই। এমনকি গর্ভাবস্থায় এইচপিভি টিকা প্রদানের সঙ্গে জন্মগত শিশুর ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত