‘পাওয়া না পাওয়া নিয়ে ভাবি না। আমি মনে করি আল্লাহ আমাকে বিপুল মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন। এটা কজন পায়? এটুকুই শিল্পী জীবনের সেরা প্রাপ্তি।’ গত বছর একটি দৈনিকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এ কথা বলেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা মাসুদ আলী খান।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টা ২০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতা। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা রবিন মন্ডল।
‘কূল নাই কিনার নাই’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘৫১বর্তী’, ‘৬৯’সহ সাড়া জাগানো বহু নাটক, সিরিজ ও সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। এসব কাজ তাকে দিয়েছে ব্যাপক খ্যাতি ও দর্শকপ্রিয়তা।
১৯২৯ সালের ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের পারিল নওধা গ্রামে জন্ম নেওয়া মাসুদ আলী খান শেষ কয়েক বছর অভিনয়ে নিয়মিত ছিলেন না। কিন্তু খুব ইচ্ছে করত তার অভিনয় করতে। কিন্তু ঘরেই থাকতে হত।
মাসুদ আলী খানের বাবা আরশাদ আলী খান ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। মায়ের নাম সিতারা খাতুন। ১৯৫২ সালে উচ্চমাধ্যমিক ও জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন মাসুদ আলী খান। মঞ্চে অভিনয় দিয়ে যাত্রা শুরু হয় তার। এরপর ১৯৬৪ সালে ঢাকায় টেলিভিশন কেন্দ্র স্থাপিত হওয়ার পর নূরুল মোমেনের নাটক ‘ভাই ভাই সবাই’ দিয়ে ছোট পর্দায় অভিষেক।
সাদেক খানের ‘নদী ও নারী’ দিয়ে বড় পর্দায় তার পথচলা শুরু। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে প্রায় ৫০০ নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
মাসুদ আলী খান ১৯৫৫ সালে বিয়ে করেন তাহমিনা খানকে। ব্যক্তিজীবনে এই অভিনেতার এক ছেলে ও এক মেয়ে। চাকরিজীবনে সরকারের নানা দপ্তরে কাজ করেছেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের সচিব হিসেবে চাকরি থেকে অবসর নেন।
অভিনেতা মাসুদ আলী খান আর নেই
ট্রাম্প কি আসলেই ফ্যাসিস্ট?