ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারে ইরান

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৫৭ এএম

ইরানের পাল্টা জবাব মোকাবিলা করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র সিএনএনকে এই তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলের সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, গত ২৬ অক্টোবর ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে ইরাকের মিলিশিয়া বাহিনীগুলোকে ব্যবহার করার চূড়ান্ত সম্ভাবনা রয়েছে তেহরানের। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আরেক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসও ইসরায়েলে পাল্টা হামলার জন্য ইরান প্রতিবেশী ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে পারে বলে জানিয়েছিল।

ইসরায়েলি সূত্রটি সম্ভাব্য হামলার সুনির্দিষ্ট তারিখ না জানালেও বলেছে, হামলাটি সম্ভবত ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগেই হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘাই বলেছিলেন, ইসরায়েলের হামলার জবাব দিতে হাতে থাকা সব হাতিয়ার কাজে লাগাবে তেহরান। ইরানের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিলের প্রধান কামাল খাররাজি বলেছেন, এবার ইরান হামলা চালালে তা হবে আরও শক্তিশালী।

ইরানের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিলের প্রধান কামাল খাররাজি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত পশ্চিমাদের, বিশেষ করে ইউরোপীয়দের সঙ্গে যথেষ্ট সংবেদনশীল আচরণ করছি। কিন্তু তারা কখনই আমাদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করে না। বিশেষ করে ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতার বিষয়ে। তারা যদি আমাদের সঙ্গে সংবেদনশীল না হয় তাহলে আমরাও কঠোর হতে বাধ্য হব। তিনি ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নিয়েও কথা বলেছেন। ইরানকে সতর্ক করতে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও অস্ত্র সরবরাহ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার এই কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত অস্ত্র সরঞ্জাম ও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। এসব অতিরিক্ত অস্ত্র সরঞ্জামের মধ্যে ডেস্ট্রয়ার, ফাইটার স্কোয়াড্রন এবং বেশ কয়েকটি বি-৫২ দূরপাল্লার স্ট্রাইক বোমারু বিমান রয়েছে। ইউএসএস বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনযোগে অস্ত্র ও সরঞ্জাম পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন পরিষ্কার করে বলেছেন, ইরান বা তার মিত্র দেশগুলো যদি এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান নাগরিক বা দেশটির স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করে, তাহলে আমেরিকা তার জনগণকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে, তেল আবিব ও হাইফায় সেনা ঘাঁটিতে আঘাতের দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। লেবাননের সশস্ত্র সংগঠনটি জানিয়েছে, তেল আবিবের দক্ষিণে অবস্থিত পালমাচিম বিমানঘাঁটিতে তাদের ড্রোন আঘাত হেনেছে। এছাড়াও উত্তর হাইফার জেভুলন সামরিক শিল্প এলাকায় তাদের মিসাইল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত