যেভাবে নেবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ১২:০৬ এএম

শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। স্বপ্নের বিদ্যাপীঠে ভর্তি হওয়ার জন্য চেষ্টার কোনো কমতি দেখা যায় না তাদের মধ্যে। কিন্তু কিছু অজ্ঞতা ও অনভিজ্ঞতার কারণে অনেকেই জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কিছু ভুল করে ফেলেন। এর ফলে অনেকেই ভর্তি হতে পারেন না আর ভর্তি হতে পারলেও পস্তাতে হয় পরে। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছেন এনাম-উজ-জামান

স্বপ্ন ও বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয়

আমাদের দেশের বাস্তবতায়, একজন শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ারের সঙ্গে শুধু তার নিজের জীবন নয়, যুক্ত থাকে গোটা পরিবার। আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে অনেকেই তাদের পছন্দনীয় বিষয়ে পড়ার সুযোগ পান না যেমন সত্যি, তেমনি পছন্দের বিষয়ে পড়ে পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। তাই নিজের ভালো লাগার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্য, নিকটাত্মীয়, শিক্ষক, প্রতিবেশীদের মধ্যে যারা উচ্চশিক্ষার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে স্বপ্ন ও বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় করে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে।

কোচিং নির্ভরতা নয়

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, কোচিং করাটা বেশ কাজে আসে। এটা ঠিক যে, এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হয়। এটি একটি পরিশ্রমসাধ্য কাজ কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করতে হলে ব্যাপারটিকে মেনে না নিয়ে উপায় নেই। আগে কোচিংয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের সাময়িকভাবে নিজের ঠিকানা পরিবর্তন করতেও দেখা গেছে। কিন্তু বর্তমানে নিজ নিজ জেলাতেই ভর্তি পরীক্ষার কোচিং করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ক্লাস গুরুত্বের সঙ্গে করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। তবে কোচিং নির্ভরতা নয়, বরং নিজে অনুশীলনের ওপর গুরুত্ব বেশি দিতে হবে।

রুটিন করো এখনই

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সিলেবাস কম নয়। এইচএসসি পরীক্ষার সিলেবাসের সমান। এইচএসসি পরীক্ষার জন্য সময় পাওয়া যায় দুবছরের বেশি, কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার জন্য সময় পাওয়া যায় মাত্র কয়েক মাস। তার ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ধরন এইচএসসি পরীক্ষার ধরন থেকে আলাদা। আবার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সঙ্গে ছোট হলেও ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার রয়েছে পার্থক্য। গোটা বিষয়টি এতই বিস্তৃত যে, এই অল্প সময়ের মধ্যে পূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হলে সময়ের সদ্ব্যবহারের বিকল্প নেই। একটি পরিকল্পিত ও গোছালো প্রস্তুতির জন্য তাই রুটিন তৈরি করে ফেলুন এখনই। তবে শুধু রুটিন তৈরি করলেই হবে না, তা মেনেও চলতে হবে। রুটিনে থাকবে, কবে নাগাদ আপনি গোটা সিলেবাস শেষ করবেন, কবে নাগাদ আপনি রিভিশন দেবেন, কবে থেকে আপনি মডেল টেস্ট ও মক টেস্ট দেওয়া শুরু করবেন। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে চাইলে সেটি কীভাবে সম্পন্ন হবে প্রভৃতি বিষয় প্রথমে লিখে ফেলতে হবে। এরপর সময় অনুযায়ী রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তা ছাড়া পত্রপত্রিকায় দিকে নজর রাখতে হবে কবে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্কুলার হলো, কবে ফরম জমা দিতে হবে প্রভৃতি। সে অনুযায়ী রুটিন পরিবর্তিত হতে পারে।

পূর্ণ মনোযোগ দিন প্রস্তুতিতে

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সবার মনে ওপরই প্রচ- চাপ পড়েছে। কিন্তু তারপরও জীবন থেমে থাকছে না। বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে নিয়ম অনুযায়ী। কিছু পরীক্ষা না হওয়ার ও আগে আগে ফলাফল প্রকাশের ফলে সবাই কিছু বাড়তি সময় পেয়েছেন। এ সময়কে কাজে লাগান ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। এতে বাইরের অস্থিরতা থেকে যেমন মুক্তি পাবেন তেমনি উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়েও যাবেন অনেকখানি। এ সময় যতটা একাগ্রচিত্তে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে, ততই ভালো কিছু ফল পাওয়ার নিশ্চয়তা বেড়ে যাবে।

গ্যাজেট ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করুন

অনেকেই গ্যাজেটের পেছনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির এ সময়ে সময় অপচয় অনুচিত। তাই এ সময় গ্যাজেট ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মনে রাখবেন, ভর্তি পরীক্ষার সময়টুকু বারবার আসবে না।

শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। পরীক্ষার পূর্বদিন পর্যন্ত অনুশীলন চালিয়ে যেতে হবে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে পরীক্ষার নিয়মকানুন জানা, ওএমআর ফরম পূরণ, পরীক্ষার দিনের প্রবেশপত্র সঙ্গে থাকা ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

অসাধুপন্থা অবলম্বন নয়

বিগত সময়ে দেখা গেছে অনেকে অসাধুপন্থা অবলম্বন করে যেমন, প্রশ্নপত্র কেনে, অন্যকে দিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয় বা অন্যভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেলসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু আখেরে কিন্তু তাদের লাভ হয়নি। কারণ আগে বা পরে তাদের নাম প্রকাশিত হয়েছে এবং তাদের ছাত্রত্ব চলে গেছে। মাঝে পড়ে চলে গেছে মূল্যবান সময়, অর্থ ও সম্মান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেই হবে, না হলে জীবনের কোনো অর্থ থাকবে না ব্যাপারটি এমন নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়লে জীবনে প্রতিষ্ঠিত, ধনী ও সম্মানের অধিকারী হওয়া যায়। তাই এসব অসাধুপন্থা অবলম্বন না করে প্রস্তুতিতে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেলে ভেঙে না পড়ে জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে মনোনিবেশ করা উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত