কুমড়া বড়িতে সচ্ছল যমুনাপাড়ের নারীরা

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৩০ এএম

সকালের শিশিরভেজা ঘাস জানান দিচ্ছে শীতের আগমন ঘটতে শুরু করেছে উত্তরের জেলাগুলোতে। শীতের মুখরোচক খাবারগুলোর অন্যতম একটি কুমড়া বড়ি। শীতের আগমনীতে বগুড়ার যমুনা পাড়ের নারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন মাষকলাইয়ের ডাল দিয়ে কুমড়া বড়ি তৈরিতে। সারিয়াকান্দি উপজেলার সাহাপাড়ায় সবচেয়ে বেশি কুমড়া বড়ি তৈরি করে থাকেন নারীরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা এই গ্রাম থেকে কুমড়া বড়ি সংগ্রহ করে বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করেন। অন্যান্য জেলায় উৎপাদন হলেও বগুড়ার যমুনা পাড়ের কুমড়া বড়ির রয়েছে বেশ নামডাক। সাহাপাড়ার হিন্দু নারীরা কুমড়া বড়ির বাণিজ্যিক উৎপাদন করে পরিবারের আয়ে বড় অবদান রাখছেন। শুধু তাই নয়, এর আয় দিয়ে নিজেদেরকেও সচ্ছল করে তুলেছেন তারা। 

গত মৌসুমে এ এলাকায় প্রায় ১২-১৪ লাখ টাকার কুমড়া বড়ি বেচাকেনা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মানভেদে এই কুমড়া বড়ি এবার পাইকারি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০-২৫০ টাকা। সবচেয়ে ভালো মানের কুমড়া বড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে। তবে খুচরায় কেজিপ্রতি আরও ৮০-১০০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হয়। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কুমড়া বড়ি তৈরি হলেও পৌর এলাকার সাহাপাড়া গ্রামের রয়েছে আলাদা নামডাক। বংশপরম্পরায় বছরের পর বছর ধরে কুমড়া বড়ি তৈরি করে আসছেন স্থানীয়রা। এ গ্রামের প্রায় শতাধিক নারী সংসারের কাজের পাশাপাশি এ কুমড়া বড়ি তৈরি করে থাকেন। সাধারণত বাংলা সনের কার্তিক মাস থেকে ফাগুন মাস পর্যন্ত এর চাহিদা বেশি থাকে। তাই এ বছরও শীতের আগমনীতে অক্টোবর থেকে বড়ি তৈরি করা শুরু হয়েছে। যা চলবে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত। একেকজন কারিগর দিনে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত কুমড়া বড়ি বিক্রি করে থাকেন। কুমড়া বড়ি তৈরির প্রধান উপাদান মাষকলাই ডাল। গত বছরের তুলনায় এ বছর মাষকলাইয়ের দাম বেশি হওয়ায় কুমড়া বড়ির দামেও প্রভাব পড়েছে।

কুমড়া বড়ি তৈরির জন্য মাষকলাই প্রথমে যাঁতায় পিষে অর্ধেক করা হয়। এরপর খোসা ছাড়ানোর জন্য সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। খুব সকালে ভেজা মাষকলাই থেকে খোসা ছাড়িয়ে শিলপাটায় পিষে খামির তৈরি করা হয়। পরে সেই খামির ফেটানো হয়। এরপর পাতলা সুতি কাপড়ের ওপর বড়া বসিয়ে দুই-তিন দিন রোদে শুকানোর পর এসব বড়ি বিক্রির উপযুক্ত হয়। সাধারণত প্রতিদিন একজন নারী গড়ে ৫-১০ কেজি পর্যন্ত কুমড়া বড়ি তৈরি করতে পারেন।

স্থানীয় কারিগর গীতা রানী বলেন, ‘শীতের মৌসুমে আমরা সংসারের অন্যান্য কাজের পাশাপাশি এ কুমড়া বড়ি তৈরি করি।’

সারিয়াকান্দির স্থানীয় সংবাদকর্মী শাহাদত জামান বলেন, এসব নারীদের সহযোগিতা করতে পারলে সারাদেশে পাঠানো এবং সরকারি সাহায্য পেলে বিদেশেও রপ্তারি করা সম্ভব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত