নাফনদীর দুই চর ঘিরে বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্কে বাসিন্দারা

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৩৪ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রাতভর মর্টারশেল, বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে সীমান্তে বসবাসকারীরা। এর মধ্যে রবিবার (৩ নভেম্বর) বিকালে নাফনদীতে দুই দেশের দুইটি চরকে ঘিরে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ভেসে এসেছে। এতে নিকটবর্তী টেকনাফ স্থল বন্দরে থাকা শ্রমিক-ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুণতলী ও হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুণতলী ও হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার মাঝামাঝি অবস্থিত টেকনাফ স্থল বন্দর। নাফনদীর তীরে অবস্থিত বন্দরের ঠিক অনুমানিক ২৫-৩০ ফুট পূর্বে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত জালিয়াদিয়া নামের চর। জালিয়াদিয়া থেকে পূর্ব উত্তরের অনুমানিক ৫০ ফুট দূরে মিয়ানমার নিয়ন্ত্রিত লালদিয়া নামের চরটি।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ঘণ্টার বেশি সময় জুড়ে এই চর দু’টি ঘিরে বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুণতলী এলাকার ইউপি সদস্য নজির আহমদ ও হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া এলাকার ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আলী ।

এ দুই জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন, হঠাৎ করে বিকট শব্দে ভেসে আসলে বন্দরে থাকা শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা এদিক ওদিক ছুটাছুটি করে। এতে আতঙ্কে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কে ঘর-বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় এলাকায় বসবাসরত মানুষও।

দুই জনপ্রতিনিধি জানান, মিয়ানমারের অভ্যন্তরের এখন সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে এই চর দুইটি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরএসও সদস্যের মধ্যে এই সংঘাত চলছে বলে নানাভাবে শোনা যাচ্ছে। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। বিকাল সাড়ে ৫টার পর থেকে শব্দ শোনা যাচ্ছে না।

টেকনাফের ইউএনও মো. আদনান চৌধুরী জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সংঘাতের জেরে মিয়ানমারের লালদিয়া চরে সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। কারা বা কাদের সঙ্গে সংঘাত বলা যাচ্ছে না। সীমান্তে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সর্তক রয়েছে।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেমর লালদিয়া নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সংঘাতে গুলি এসে পড়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যালয়, একটি পন্যবাহী ট্রাক ও স্থানীয় এক ব্যক্তির বসতঘরে। এ ব্যাপারে কথা বলতে বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে শনিবার রাত ৮টা থেকে শুরু হওয়া বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে এসেছে রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত। বিস্ফোরণের শব্দের সঙ্গে কেঁপে উঠে টেকনাফের হ্নীলা, পৌরসভা, টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়নের বসতবাড়িও।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত