ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দখলদার ইসরায়েলকে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। গাজায় বর্বরতা, লেবাননে ইসরায়েলি কমান্ডোদের অভিযানসহ নানা ঘটনার পর এমন হুঁশিয়ারি বাক্য উচ্চারণ করেছেন খামেনি। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় শত্রুর জানা উচিত তারা অবশ্যই দাঁতভাঙা জবাব পাবে।
গত ২৬ অক্টোবর ইরানে বিমান হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল। এরপর থেকেই পাল্টা হামলার হুমকি দিয়ে আসছে। তবে ইসরায়েল হুমকি দিয়েছে তারাও পাল্টা জবাব দেবে। আর এবারের হামলার পরিধি হবে তীব্র। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান যদি ইসরায়েলে ফের হামলা চালায় তাহলে এবার ওয়াশিংটন বাধা দিতে পারবে না বলে তেহরানকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এমনকি পাল্টা হামলার জবাবে তেল আবিব বৃহৎ পরিসরে ইরানে হামলা চালাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। এবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, ইরানিদের বলেছি আমরা ইসরায়েলিদের আটকাতে পারব না। এমনকি নিশ্চয়তা দিতে পারব না এবারের হামলা হবে নির্ধারিত লক্ষবস্তুতে। ইরানের কাছে সরাসরি এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তবে ইসরায়েলি একটি সূত্র জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডের মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে। তবে অ্যাক্সিওসের এই প্রতিবেদনের ব্যাপারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কারও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইরানি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রধান ধর্মীয় নেতা খামেনি একাধিকবার ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। খামেনির এই কথার অর্থ হলো ইসরায়েলে ইরান নিশ্চিতভাবে হামলা চালাবে। তবে এটির প্রতিক্রিয়ায় দখলদার ইসরায়েল কী করবে সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, ইসরায়েলের একটানা হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজার উত্তরাঞ্চল। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় অগণিত বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানিয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় জাবালিয়া এলাকায় ৫০ জনের বেশি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ক্যাথেরিন রাসেল এসব হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। জাবালিয়া এলাকায় ইউনিসেফের কর্মীরা পোলিও টিকাদান কর্মসূচি চালানোর সময় গত শনিবার হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ইউনিসেফ প্রধান বলেন, টিকাদান কর্মসূচি চলাকালে হামলার বিষয়টি প্রমাণ করে গাজায় গণহত্যা ও আগ্রাসনের চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে ইসরায়েল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় চার শিশুসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
