গাজীপুরে ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের নাটক

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৪৫ এএম

ইউএসএআইডির অর্থায়নে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে পরিচালিত ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে ‘জুলেখার জীবন’ শীর্ষক নাটক প্রদর্শিত হয়েছে। নাটকে দেখা যায়, ছোট্ট ঘরে বসবাস, ঘরে নেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা, রান্নাঘরে গ্যাস আসে না ঠিকমতো। সঙ্গে একজন প্রতিবন্ধী সন্তান, যার পরিচর্যায় মায়ের ধৈর্যের পরীক্ষা চলে প্রতিনিয়ত। এমনই এক অসহায় মায়ের নাম জুলেখা, যিনি প্রতিদিন নিজেকে হারিয়ে ফেলেন নতুন উদ্যমে। শুধুমাত্র মুষ্টিমেয় পয়সার জন্য তাকে ঘরের বাইরে পা রাখতে হয়, আর মুখোমুখি হতে হয় অসংখ্য ইভটিজিং, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের। এইসব কষ্টই উঠে এলো ‘জুলেখার জীবন’ নাটকে, যা গাজীপুরে আয়োজিত এক নাট্য প্রদর্শনীতে উপস্থাপিত হয়।

এই প্রদর্শনীতে প্রায় দেড় শতাধিক শ্রমিক উপভোগ করলেন তাদেরই জীবনের প্রতিচ্ছবি। গাজীপুরের কর্মী করিম বলেন, ‘নাটকের গল্পের সঙ্গে আমাদের জীবনের গল্প যেন মিলে যায়।’ রাবেয়া নামের এক কর্মী বললেন, ‘প্রতিদিন বাসে গেলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। বাড়ি ফিরতে ভয় হয়, ছিনতাইকারীদের ভয়।’ তার এই কথায় উঠে আসে সমাজের নীরব অসহিষ্ণুতা।

বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ৯৪% নারী পাবলিক পরিবহনে চলাচলের সময় কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হন।

বাংলাদেশে কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ারের সুবিধা খুবই সীমিত। দেশের সরকারি ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে মোট ডে-কেয়ার কেন্দ্রের সংখ্যা অত্যন্ত কম। বর্তমানে মাত্র ১১৯টি সরকারি ডে-কেয়ার কেন্দ্র রয়েছে, যার বেশিরভাগই ঢাকা শহরে অবস্থিত। দেশের বেশিরভাগ জেলায় বিশেষ করে ৩৬টি জেলায়, কোনো ডে-কেয়ার কেন্দ্রই নেই, যা কর্মজীবী নারীদের জন্য বিশাল এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ‘আমিও জিততে চাই’ প্রকল্পটি এমন একটি উদ্যোগ, যা বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষদের কণ্ঠকে প্রাধান্য দেয়। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিকের দাবি ও সমস্যাকে সবার সামনে তুলে ধরা। ‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের আওতায়, মানুষ তাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যাগুলোকে তুলে ধরতে পারেন, যা সাধারণত সরকারি কর্র্তৃপক্ষের নজরে আসে না।

‘আমিও জিততে চাই’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল বিভিন্ন জেলা ও ক্যাম্পাসে নাট্য প্রদর্শনী, কর্মশালা ও আলোচনার আয়োজন করে থাকে। এভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা শুনে তাদের প্রতি সমাজের সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিজ্ঞপ্তি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত