ফেনীর সোনাগাজীতে শ্লীলতাহানি ও মারধরের মামলায় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাদীকে ফের মারধর ও তার ছেলেকে কুপিয়ে জখম করেছে অভিযুক্ত আবদুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সোনাগাজী পৌরসভার তাকিয়া রোড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত মুজাহিদুল ইসলাম সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার মা আয়েশা আক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের বাড়ি সাত নম্বর ওয়ার্ডের তাকিয়া রোডে।
স্থানীয়রা জানান, আবদুর রহমান পৌরসভার তাকিয়া রোডে মুজাহিদের দোকানে চাকরি করতেন। এরপর তিনি এলাকাবাসীর সহায়তা নিয়ে মুজাহিদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশে দোকান দিয়ে এলপি গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল কেনাবেচা শুরু করেন। এ নিয়ে আবদুর রহমানের সঙ্গে মুজাহিদের মনোমালিন্য শুরু হয়।
মুজাহিদ বলেন, ‘আমার দোকানে চাকরি করার সময় আবদুর রহমান ৫০ হাজার টাকা ধার নেয়। পরে টাকা ফেরত না দিয়ে সে আমার দোকানের পাশে দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করে। আমি তার কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সে আমার ওপর হামলার চেষ্টা করলে আমার মা তাকে ফেরাতে চেষ্টা করেন। এ সময় সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে। এ ঘটনায় আমার মা আয়েশা আক্তার বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। গত সোমবার সে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে মঙ্গলবার সকালে রড, বঁটি, দা হাতে নিয়ে আমার দোকানের সামনে অবস্থান নেয়। আমি দোকান খুলতে আসা মাত্রই সে আমাকে কোপাতে থাকে। এ সময় প্রাণভয়ে পালাতে থাকলে সে আমাকে ধাওয়া করে পুনরায় পেটাতে শুরু করে। এ সময় আমার মা আমাকে রক্ষা করতে এলে সে তাকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়।’
অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুর রহমান বলেন, ‘মুদি-মনিহারী দোকান দেওয়ার পর থেকে মুজাহিদ আমাকে বিভিন্ন উপায়ে হয়রানি করতে থাকে।’ তবে জামিনে বেরিয়ে মুজাহিদ ও তার মায়ের ওপর হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তর দিতে অপারগতা জানান।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি কামরুজ্জামান বলেন, ‘হামলার বিষয়ে মুজাহিদ আমাকে অবহিত করেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
