বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, যেকোনও গণতান্ত্রিক দেশে জনমত ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার ছাড়া কোনও গোষ্ঠী কর্তৃক সাংবিধানিক বা যেকোনও সংস্কার টেকসই হবে না। সংস্কার টেকসই হবে তখনই, যখন জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কোনও সংস্কার করবে।
আজ শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর জেলা ওলামা দলের কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিএনপি সমর্থন করে এবং সরকারের সফলতা অর্জনেও বিএনপি সহযোগিতা করছে এবং করবে। আমরা চাই এ সরকার সফলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করে দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের রোডম্যাপ দিক। জনগণ দ্বারা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করুক।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, অনেকেই মনে করছেন ১ মাস বা ২ মাসের আন্দোলনে স্বৈরাচারী সরকার পালিয়েছে। কিন্তু এটি একটি ভুয়া ভাবনা। এক-দুই মাসের আন্দোলনে এ স্বৈরাচারী সরকার পালায়নি। বিএনপি ও বিরোধী দলগুলোর বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল ছিল বিগত স্বৈরাচারী সরকারের বিদায়। স্বৈরাচার পতন আন্দোলনে বিএনপির প্রায় ১৭০০ নেতাকর্মী গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে করা হয়েছে লাখ লাখ মামলা। মামলা, হামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েও বিএনপি নেতাকর্মীরা আমাদের নেতা তারেক রহমানের নির্দোশনানুযায়ী স্বৈরাচারী আ. লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে গেছে। তাই স্বৈরাচার পতন ১ বা ২ মাসের আন্দোলনে হয়নি।
আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, স্বৈরাচার সরকার পালিয়েছে, তবে তার দোসররা এখনও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। দেশের ভেতরে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে যাচ্ছে। বিএনপি এ সরকারকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, যাতে এ সরকার ব্যর্থ না হয়। তবে এ সরকারের উচিত দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম শেষ করে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়া।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মিন্টু বলেন, আমরা বিগত স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় করে প্রাথমিক বিজয় অর্জন করেছি মাত্র। এখনো চূড়ান্ত বিজয়ের পথ অনেক লম্বা। দেশে অবাদ ও সুষ্ঠু একটি নির্বাচনের মাধ্যমে যতক্ষণ না পর্যন্ত জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করবে ও আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে এ দেশের শাসনভার গ্রহণ না করবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জন হবে না। তাই সেই পর্যন্ত আমাদের সকল নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলকে সুসংগঠিত করে তুলতে হবে।
জাতীয়তাবাদী ওলামা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাওলানা কাজী মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে কর্মীসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল।
রাজবাড়ী জেলা ওলামা দলের সদস্য সচিব ও ফরিদপুর জেলা ওলামা দলের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) সেলিমুজ্জামান সেলিম, মাশুকুর রহমান মাশুক, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী, ওলামা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবুল হোসেন ও ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এম কাইয়ুমসহ প্রমুখ।
কিরণের হাতেই নারীদের ফুটবল
কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় শহীদ ও আহত পরিবারের পাশে তারেক রহমান
নতুন স্বাধীনতা যেন কয়েক সপ্তাহ বা মাসে হারিয়ে না যায়: সারজিস