দোদুল্যমান রাজ্যে ট্রাম্পের একচেটিয়া জয়

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:০৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আগেই বিজয় নিশ্চিত করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দেরিতে আসা অঙ্গরাজ্যগুলোর ফল নিজের পক্ষে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কমলার সঙ্গে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট ব্যবধান বাড়িয়েই যাচ্ছেন। নির্বাচনে সর্বশেষ রাজ্য হিসেবে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য অ্যারিজোনার আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানেও বড় ব্যবধানে কমলাকে হারিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি দোদুল্যমান রাজ্যের সবগুলোই নিজের দখলে নিলেন তিনি।

২০২০ সালের নির্বাচনে প্রায় একই রকম চিত্র দেখা গিয়েছিল। সেবার সাত দোদুল্যমান রাজ্যের ছয়টিতেই জয়ী হয়েছিলেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শুধু নর্থ ক্যারোলিনায় ট্রাম্পের কাছে হেরেছিলেন বাইডেন। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প এখন পর্যন্ত ৭ কোটি ৪৬ লাখ ভোট পেয়েছেন, যা মোট ভোটের ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ। তার বিপরীতে কমলা পেয়েছেন ৭ কোটি ৯ লাখ ভোট, যা প্রদত্ত ভোটের ৪৮ শতাংশ। অ্যারিজোনায় ইলেকটোরাল কলেজের ভোট ১১টি। ফলে সবমিলিয়ে ট্রাম্পের ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১২ আর কমলার ভোট ২২৬টি।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর দেশটির রাজনৈতিক ঐতিহ্য মেনে ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। শনিবার হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র কারিন জ্যঁ-পিয়ের বলেন, আগামী বুধবার হোয়াইট হাউজে আসবেন ট্রাম্প। সেদিনই ওভাল অফিসে বৈঠকে বসবেন দুজন। ট্রাম্পের বিজয়ের পর প্রেসিডেন্ট বাইডেন সুশৃঙ্খলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে বাইডেন ঐতিহ্য ও রীতি মেনে সুষ্ঠু প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেও, ২০২০ সালের নির্বাচনে তার উল্টো কাজ করেছিলেন ট্রাম্প। সে নির্বাচনে বাইডেনের কাছে হার মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সমর্থকদের উসকে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার উসকানিতে ক্যাপিটাল হিলে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা।

এদিকে, দ্বিতীয় মেয়াদের ট্রাম্প প্রশাসনে কারা থাকবেন, সে নিয়ে বিস্তর জল্পনা-কল্পনা চলছে। এবারও ট্রাম্প প্রশাসনে তার প্রথম মেয়াদের অনেকেই থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এবারের প্রশাসনে নিকি হ্যালি ও মাইক পম্পেওকে রাখছেন না তিনি। প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন পম্পেও। আর হ্যালি ছিলেন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ায় হতাশা জানিয়ে শনিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত