সংবিধান সংস্কারের সুপারিশ তৈরির জন্য অংশীজনদের মতামত ও প্রস্তাব নেবে সংবিধান সংস্কার কমিশন। গতকাল সোমবার থেকেই মতবিনিময় শুরু করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। প্রথমেই বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিশন। আগামী কয়েক দিন এই আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সিভিল সোসাইটিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় ১৬টি সংগঠনের ৩১ জন অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতেই জুলাই-আগস্টে নিহত ছাত্র-জনতার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়।
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং কমিশনের সদস্য অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ড. শরীফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী এবং ফিরোজ আহমেদ এতে অংশ নেন।
আরও অংশগ্রহণ করা সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম ইন বাংলাদেশ (এএলআরডি), বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ), রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টার, উইমেন উইথ ডিজএবিলিটিস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, ক্যাম্পেইন ফর পপুলার এডুকেশন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), নারীপক্ষ, বাংলাদেশ ইসলামিক ল রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার, হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভ, বাঁচতে শেখা, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং বাংলাদেশ ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট (বিআইএম)।
আগামীতেও রাজনৈতিক দল বাদে অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে তারা। তবে যেসব ব্যক্তি, সংগঠন, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দল জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের সময় সক্রিয়ভাবে হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থেকেছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হত্যাকাণ্ড এবং নিপীড়নকে সমর্থন করেছে, ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমকে বৈধতা দিতে সাহায্য করেছে, তাদের সংস্কার প্রস্তাবের সুপারিশ তৈরিতে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ কমিশন।
কমিশনের প্রধান আলী রিয়াজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের লিখিত মতামত ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করা হবে। তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন কমিশনের কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবে। ফলে কমিশনগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবে না। কিন্তু তাদের দেওয়া প্রতিটি লিখিত প্রস্তাব ও মতামত কমিশন নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করবে এবং কমিশন তাদের সুপারিশে তার যথাসাধ্য প্রতিফলন ঘটাতে সচেষ্ট থাকবে।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত মঙ্গলবার থেকে সাধারণ নাগরিকদের মতামত ও প্রস্তাব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করা শুরু করেছে কমিশন।
