ক্ষমতায় ১০-২০ বছর থাকার চেষ্টা করবেন না : হাফিজ

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:২৭ এএম

দুয়েকটা মিছিল করলে দেশ ঠিক হয়ে যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘ভোট কি এত সোজা? ভোট তো গণতন্ত্রের প্রতীক। ভোটের জন্যই তো ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ২৪ সালে লড়াই তো হয়েছে বাকস্বাধীনতা, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রধান উপাদান।’

গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘৭ নভেম্বর আকাক্সক্ষা ও আজকের রাজনীতির প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘শুধু নির্বাচনের জন্য দুই হাজার মানুষ জীবন দেয়নি’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সারজিস আলমের বক্তব্য উল্লেখ করে মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। তাহলে কীসের জন্য যুদ্ধ, এত আত্মত্যাগ? ভোট কি এতই হেলাফেলার বস্তু? অর্থাৎ তারা (বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন) গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণে বিশ^াসী নয়। তারা হয়তো ভাবে, দুয়েকটা মিছিল করলে দেশ ঠিক হয়ে যাবে। এগুলো এদের গুরুরা হয়তো শেখায়।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকারের প্রধান কাজ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। আমরা দেখতে পাচ্ছি, যে লঙ্কায় যায় সেই রাবণ হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকতে চায়। এরই মধ্যে সরকারের উপদেষ্টা পদে আওয়ামী ঘরানার বিভিন্ন লোক ঢুকে গেছে। ছাত্ররা আমাদের সন্তানের মতো, তাদের কার্যক্রম দেখলে মনে হয়, দেশটা তারাই স্বাধীন করেছে আর কেউ জীবন দেয়নি। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর হাজারো নেতাকর্মী জীবন দিল তাদের হিসাব-নিকাশ কে করবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘ইউনূস সরকারকে সমর্থন করি। আপনারা আজীবন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবেন না। ১০-২০ বছর ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবেন না। যারা আওয়ামী লীগের কুশীলব ছিল, ১৬ বছর ধরে হালুয়া-রুটি খেয়েছে, সুবিধা নিয়েছে, তারা এখনো বহাল তবিয়তে আছে, তাদের সরাতে হবে। এটি শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব বটে।’

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর অকুণ্ঠ সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখ করে হাফিজউদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনো পোস্টার কিংবা ব্যানার নিয়ে যাইনি। যে কারণে মনে হয় এটা বিএনপির আন্দোলন না। ভোলার লালমোহনে আমাদের ১০ জন শহীদ হয়েছে। তারা কেউ ছাত্র না, রিকশাচালক, মুদি দোকানদার। তারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শরিক হয়েছিল।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বাকি সংস্কার করবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। সেই নির্বাচনে ছাত্ররা অংশগ্রহণ করেন। আমরা সবাই নিজ-নিজ ম্যানুফেস্টো নিয়ে জনগণের কাছে যাব। জনগণ যাদের দেশ পরিচালনার জন্য যোগ্য মনে করবে তাদের নির্বাচিত করবে। বিএনপিকে ভোট দিতে হবে, এমন কথা তো আমরা বলি না। সব রাজনৈতিক দল অতীতে ক্ষমতায় ছিল, বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, আমাদের ভুলভ্রান্তি ছিল। মানুষ মাত্রই ভুল করে।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমদ খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত