গাইবান্ধায় সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৪, ১২:২৪ এএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে দোকানঘর। এরপর সেই দোকানঘর ভাড়া দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল। এসব দখল বাণিজ্যের পেছনে রয়েছেন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু লাইসেনসবিহীন দলিল লেখক।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিস সূত্র জানায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোট ৫৩ শতাংশ জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৪ শতাংশ জমি রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য অধিগ্রহণ করেছে সরকার। মূল অফিস ভবনটি ৩৬ শতাংশ জায়গার মধ্যে অবস্থিত। বাকি ১৩ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। এর আনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এই জমিতে ১২টি দোকান রয়েছে। কয়েকটি ঘর ব্যবহার করছেন দলিল লেখকরা। বাকি দোকানগুলো ভাড়া দিয়ে নিয়মিত বাণিজ্য করছেন একটি প্রভাবশালী মহল।

অভিযোগ রয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কিছু দলিল লেখক এই দখলের সঙ্গে জড়িত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন দলিল লেখক জানান, যুগের পর যুগ ধরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনের অন্তত ১৩ শতাংশ জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। এর মধ্যে কয়েকটি দোকান দলিল লেখকরা নিজেরাই ব্যবহার করছেন। তবে বেশিরভাগ দোকান স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ভাড়া দিয়ে আয় করছেন। অথচ অফিসের জায়গা সংকোচন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সাধারণ মানুষ দলিল সম্পাদনের জন্য এসে বিড়ম্বনায় পড়ছেন। 

লাইসেন্সপ্রাপ্ত কয়েকজন দলিল লেখক বলেন, দোকানগুলো খাবারের হোটেল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের অনেকের লাইসেনস নেই। তবুও তারা জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করেছেন। বেশ কয়েক বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অবৈধ দখল উদ্ধার করার চেষ্টা চালালেও অজ্ঞাত কারণে তা থেমে যায়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মেহেদী হাসান বলেন, ‘সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা করার কোনো সুযোগ নেই। আমি প্রাথমিকভাবে পরিদর্শন করে অবৈধ দখলের সত্যতার প্রমাণ পেয়েছি। তারপরও বিষয়টা নিয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করছি। শতভাগ দখলের সত্যতা প্রমাণিত হলে দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এই দখলের সঙ্গে কারা জড়িত এমন প্রশ্নের জবাবে সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে দুজনের নাম আমি জানতে পেরেছি। যেহেতু সরকারি বিষয়, তাই এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত