রাজধানীর গুলিস্তান ও ফার্মগেটে হকার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও যৌথ বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার পৃথক দুই অভিযানে গুলিস্তান থেকে হকারদের ৫০০ চৌকি ও ভ্যান জব্দ করেছে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এদিকে ফার্মগেটে অভিযান চালিয়ে ফুটপাতের শত শত দোকান গুঁড়িয়ে দিয়েছে যৌথ বাহিনী।
গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কসংলগ্ন জায়গা থেকে হকারদের ব্যবহৃত এসব ভ্যান ও চৌকি জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) খোন্দকার নজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘গুলিস্তানে আমরা দিনে চারবার অভিযান চালাই। কিন্তু অভিযানে এসে কোনো গাড়ি পাওয়া যায় না। পরে আমরা তথ্য পেলাম অভিযানের সময় হকাররা গাড়িগুলো গুলিস্তান শহীদ মতিউর পার্কে এনে রাখে। অভিযানের দল চলে গেলে তারা আবারও রাস্তায় নামে। আজ (গতকাল) আমরা সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় গাড়ি রাখার স্থানেই অভিযান চালিয়েছি।’ এ অভিযানে সহায়তা করেছে ডিএমপির ক্রাইম বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও সেনাবাহিনী।
গতকাল দুপুরে ফার্মগেট এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ফুটপাতের শত শত দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করছে উচ্ছেদ হওয়া হকাররা। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও সিটি করপোরেশনের যৌথ অভিযানে ফার্মগেট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ফার্মগেটের গ্রিনরোড থেকে শুরু করে খামারবাড়ি পর্যন্ত এ অভিযান চলে। এতে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা শত শত দোকানপাট গুঁড়িয়ে দিতে দেখা যায়।
ফুটপাত উচ্ছেদের বিষয়ে ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘শহরের মধ্যে ফার্মগেট অতি ব্যস্ততম একটি এলাকা। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। ফুটপাত ও সড়ক দখলে থাকায় জনসাধারণের চলাচলের ভোগান্তির পাশাপাশি অপরাধ তৎপরতা বাড়ছে। তাই ফার্মগেট এলাকার ফুটপাত উচ্ছেদ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফুটপাত উচ্ছেদের এক দিন আগে এই বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছিল। হকারদের চলে যেতে ঘোষণা দেওয়া হয়। অথচ তারা দোকানপাট সরিয়ে নেয়নি। তাই আজ (গতকাল) পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাব ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়।’
হকারদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ: উচ্ছেদের প্রতিবাদে হকাররা ফার্মগেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বেলা ৩টার দিকে খামারবাড়ি মোড়ে সড়ক অবরোধ করে। সেখানে কয়েকটি গাড়ির ওপর হামলা করতে দেখা গেছে। পরে তারা সেখান থেকে আবার তেজগাঁও কলেজের সামনে মিছিল নিয়ে প্রায় আধঘণ্টা বিক্ষোভ করে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে চলে যায়। এরপর সেখানেই দীর্ঘ সময় বিক্ষোভ করে।
এ সময় মো. সিরাজুল ইসলাম নামে এক হকার বলেন, ‘আমরা পেটের দায়ে রাস্তায় দোকান করি। আমাদের সরিয়ে দিলে কোথায় যাব। কী করে খাব, কীভাবে সংসার চালাব। এটা হতে দেওয়া যাবে না। আমাদের পেটে লাথি দিলে, আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’
