ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় যাদের সম্পৃক্ততা নেই, দ্রুত তদন্ত করে তাদের নাম মামলার আসামি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য, সাংবাদিকদের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেয় প্রেস উইং।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে মামলা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পূর্বশত্রুতা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করা, চাঁদাবাজি ও হয়রানি করতেও অনেককে এসব মামলায় আসামি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক কয়েক দিন আগে রাজধানীর একটি থানায় এরকম একটি মামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘ভুক্তভোগী ব্যক্তি যদি মামলা করেন, তাহলে তাকে মানা করা যায় না। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই, দ্রুত তদন্ত করে তাদের নাম বাদ দিতে বলা হয়েছে। পুলিশকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ সময় ঢালাও মামলার বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানের কথা বলতে গিয়ে উপ-প্রেস সচিব অপূর্ব জাহাঙ্গীর বলেন, ‘মামলা দেওয়া একজনের অধিকার, তিনি মামলা দিতেই পারেন। কিন্তু যার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ নেই, সে ক্ষেত্রে বারবার বলা হচ্ছে তাদের যেন মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। সরকারের এ অবস্থান এখনো আছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ চার বছর হবে বলেননি প্রধান উপদেষ্টা : কাতারভিত্তিক সম্প্রচার মাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি স্পষ্ট করার বিষয়ে একজন সাংবাদিক গতকালের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করেন। জবাবে পুরো সাক্ষাৎকারটি ভালোমতো শোনার কথা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, সংবিধান নিয়ে অনেক কথাবার্তা হচ্ছে, সেখানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে সংসদের মেয়াদ চার বছর আনা হোক। এ পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যটি এসেছে বলে উল্লেখ করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, এটা অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষেত্রে নয়। দেখা যাচ্ছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ভালোমতো জিনিসটি না শুনে অনেকে শিরোনাম করে দিয়ে দিয়েছে।
অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রসঙ্গ : বেশ কিছুসংখ্যক সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে করা প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, যেসব অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে, সেখানে কী কারণে বাতিল করা হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের কার্ড বাতিল করা হয়েছে, তারা যদি মনে করেন, তাহলে তাদের আবার আবেদন করার সুযোগ আছে।
তথ্য অধিদপ্তর তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে। এমন পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে ইতিমধ্যে সম্পাদক পরিষদ বিবৃতি দিয়েছে। একাধিক সাংবাদিক সংগঠনও এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
