সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণে ‘পর্যটক সীমিতকরণ ও রাত্রিযাপন নিষিদ্ধসহ বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের’ দাবিতে কক্সবাজার শহরে সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দ্বীপটির বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্য, অতীতের কোনো সরকার দ্বীপ নিয়ে এমন টালবাহনা করেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার নামে পর্যটন শিল্প ধ্বংস করে দ্বীপ নিয়ে পাঁয়তারা শুরু করেছে। সরকার এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে দ্বীপের মানুষ রাস্তা ছাড়বে না।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে কক্সবাজার শহরের প্রবেশমুখ কলাতলীর ডলফিন মোড়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দারা কাফনের কাপড় পরে সড়কে শুয়ে পড়েন। কলাতলী মোড়টি শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকা এবং প্রবেশমুখ হওয়ায় অবস্থান কর্মসূচির কারণে চতুর্দিকে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পাঁচ ঘণ্টার অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা পড়ায় পর্যটক ও স্থানীয়রা দুর্ভোগে পড়েন।
কর্মসূচিতে দ্বীপবাসীর পাশাপাশি হোটেল-মোটেল, রেস্তোরাঁ ও ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ী মাওলানা আবদুর রহমান খান, মোহাম্মদ আলম, সরওয়ার কামাল, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) একাংশের সভাপতি রেজাউল করিমসহ অনেকে।
সমাবেশে আন্দোলনকারীরা বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপের পরিবেশ-প্রতিবেশ সম্পর্কে তারা অবগত। পরিবেশ রক্ষা করতে দ্বীপবাসীকে সঙ্গে নিয়েই করতে হবে। কিন্তু সরকার পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে পর্যটক গমনাগমনে বিধিনিষেধ আরোপ করে পর্যটন শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। এতে দ্বীপবাসীর জীবন-জীবিকাসহ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার কর্মীর কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়েছে। ইতিমধ্যে দ্বীপের মানুষের মধ্যে অভাব-অনটনের পাশাপাশি অনেকে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপন করছেন বলে জানান তারা।
এদিকে গতকাল ১২টার দিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য ঘটনাস্থলে যান কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নীলুফা ইয়াসমিন চৌধুরী ও কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। টানা আলোচনার পর প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ ঘণ্টা পর বিকেল ৪টার দিকে অবরোধ স্থগিত ঘোষণা করেন আন্দোলনকারীরা।
আবদুল মালেক বলেন, অতীতের কোনো সরকার দ্বীপ নিয়ে এমন টালবাহানা করেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষার নামে পর্যটন শিল্প ধ্বংস করে দ্বীপ নিয়ে পাঁয়তারা শুরু করেছে। সরকার এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসায় দ্বীপের মানুষ আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি বলেন, প্রতি বছর অক্টোবরের শেষ থেকে দ্বীপটি পর্যটন মৌসুম শুরু হয়। কিন্তু এবার নভেম্বরের শেষ সময় এসেও শুরু হয়নি পর্যটকের আনাগোনা। অনিশ্চয়তার কবলে রয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। এর মধ্যে দ্বীপে বসবাসকারী মানুষ নিজস্ব প্রয়োজনে কাঠের ট্রলার বা স্পিডবোটযোগে টেকনাফ আসা-যাওয়া করতেও প্রতিবন্ধকতায় আছেন। তাদের আসা বা যাওয়া এখন নির্ভর করছে প্রশাসনিক অনুমতির ওপর। এর বাইরে স্থানীয় ছাড়া বাংলাদেশের কোনো নাগরিক দ্বীপে যেতে হলে লিখিত অনুমতির শর্ত দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি। ফলে দ্বীপের মানুষের মধ্যে ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়ছে।
