নতুন ছকের ফেডারেশন কাপ শুরু ৩ ডিসেম্বর

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৪৩ এএম

২২ নভেম্বর বাংলাদেশ ২.০ চ্যালেঞ্জ কাপের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ফুটবল মৌসুম। এরপর ২৯ নভেম্বর মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। আর লিগের ১০ দল নিয়ে নতুন রূপে ৩ ডিসেম্বর শুরু হবে ফেডারেশন কাপ। বুধবার মর্যাদার এই আসরের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে ফুটবল ভবনে। ড্রয়ের ভাগ্য পরীক্ষায় ফেডারেশন কাপের সবচেয়ে সফল দুই দল আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব পড়েছে একই গ্রুপে। ৭ জানুয়ারি কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে লড়াই হবে দুই চির বৈরীর।

একই গ্রুপে পড়ায় অন্যরকম একটা রোমাঞ্চ অনুভব করতে শুরু করেছেন আবাহনী ও মোহামেডানের কর্তারা। সর্বোচ্চ ১২ বার শিরোপাজয়ী আবাহনীর এবার মৌসুম শুরু করবে বিদেশি ফুটবলার ছাড়া। এটাই তাদের বড় দুর্বলতা। তারপরও চির বৈরীদের হারানো এবং গ্রুপপর্ব পেরিয়ে কোয়ালিফায়ার্সে যাওয়ার প্রত্যয় ঝরেছে ম্যানেজার সত্যজিৎ দাশ রূপুর কণ্ঠে, ‘আবাহনীর ধর্মটাই হচ্ছে ম্যাচ জেতার জন্য খেলা। আবাহনী জেতার জন্যই খেলবে। সেভাবেই আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। সূচির দিকে যদি তাকান, আমরা যদি গ্রুপপর্ব পেরোতে পারি এরপর কিন্তু মধ্যবর্তী দলবদল চলে আসবে। তখন বিদেশি নেওয়ার সুযোগ থাকবে। আমাদের চিন্তা থাকবে, আমাদের সব প্রতিপক্ষই বিদেশি থাকায় শক্তিশালী, তাদের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা তাদের হারানোর লক্ষ্যে নামব। একই গ্রুপে আবাহনী-মোহামেডান খেলবে, এটা সারা দেশে দুদলের সমর্থকদের জন্য বড় একটা প্রাপ্তি। আশা করব আমরা তাদের নিরাশ করব না।’

২০২৩ সালের ফাইনালে এই আবাহনীকেই রোমাঞ্চকর ফাইনালে টাইব্রেকারে হারিয়ে ১১তম ফেডারেশন কাপ জিতেছিল মোহামেডান। গতবার অবশ্য বসুন্ধরা কিংসের কাছে ফাইনালে হারতে হয় তাদের। সেই আক্ষেপ ঘোচানোর পথে আবাহনীকেও হারাতে চান দলটির ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, ‘অনেক দিন পর আমরা আবাহনীর সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছি। এতে ভালো লাগছে। তাদের সঙ্গে আরেকটি অসাধারণ ম্যাচ হবে। সব দলই পাঁচ-ছয়জন করে বিদেশি এনেছে। আবাহনী আনেনি। তবে মধ্যবর্তী দলবদলে তারাও বিদেশি আনবে। বিদেশি ছাড়াও আবাহনীকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। আমরা আগের দলটি ধরে রেখেছি। আশা করছি এবার আমরা গতবারের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যেতে পারব।’

৫ আগস্টের পালাবদলে নতুন বাংলাদেশের অভ্যুত্থান ঘটেছে। প্রিমিয়ার লিগের ১০ দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করে হবে ফেডারেশন কাপ। আগের মৌসুমে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের হাওয়া থেকে পাওয়া ফরম্যাটে ঘটেছে সব তুঘলকি কান্ড। এক আজব ফরম্যাটের ফাঁক গড়ে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র কোনো পয়েন্ট না পেয়ে, এমনকি কোনো গোল না করেও চলে গিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে! বিরূপ এই পরিস্থিতি এড়াতেই এবার হচ্ছে দুই গ্রুপের খেলা এমনটাই জানালেন ড্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি ও পেশাদার লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসান। প্রতি গ্রুপের পাঁচ দল সিঙ্গেল লিগ ভিত্তিতে মুখোমুখি হবে একে অন্যের। এরপর দুই গ্রুপের সেরা চারটি দল উঠে যাবে কোয়ালিফায়ার্স টু দ্য ফাইনালে। এখানেও আনা হচ্ছে পরিবর্তন। চিরাচরিত সেমিফাইনাল ফরম্যাট আর থাকছে না। দুই গ্রুপের দুই সেরার মধ্যে হবে প্রথম কোয়ালিফায়ার। এই ম্যাচের জয়ী সরাসরি চলে যাবে ফাইনালে। অন্যদিকে দুই গ্রুপের দুই রানার্সআপ মুখোমুখি হবে একে অন্যের। এটা হবে এলিমিনেটর ম্যাচ। অর্থাৎ এখানে যারা হেরে যাবে তারা বাদ পড়বে, হবে চতুর্থ। আর জয়ী দলকে ফাইনাল নিশ্চিত করতে খেলতে হবে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে হেরে যাওয়া দলের বিপক্ষে। এই ম্যাচের বিজয়ী দল প্রথম কোয়ালিফায়ার জয়ীর সঙ্গে খেলবে ফাইনাল।

গতকাল অনুষ্ঠিত ড্রয়ে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস পড়েছে এ গ্রুপে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ পুলিশ, ফর্টিজ এফসি, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও ওয়ান্ডারার্স। আর বি গ্রুপের গতবারের রানার্সআপ মোহামেডান ও সবচেয়ে সফল দল আবাহনী ছাড়াও আছে চট্টগ্রাম আবাহনী, রহমতগঞ্জ ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব। এবার লটারির মাধ্যমে ম্যাচের ভেন্যুও চূড়ান্ত করা হয়েছে। তিনটি ভেন্যু বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়াম ও ময়মনসিংহের রফিকউদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়ামে হবে ফেডারেশন কাপের ম্যাচ। ২ মে আসরের ফাইনালের ভেন্যু পরে চূড়ান্ত করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত