পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের যাত্রীবাহী গাড়িতে বন্দুক হামলার দুটি পৃথক ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ হয়েছে। প্রদেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বের জেরে এই হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি। হামলার ঘটনার পর থেকে এ দুর্গম পার্বত্য জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং মোবাইল সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শিয়া মুসলিমদের বহনকারী দুটি পৃথক গাড়িবহরে বন্দুকধারীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। দুটি হামলার ঘটনাই আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে কুররাম জেলায় ঘটে। শিয়া-সুন্নিদের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী এই জেলা। বেশ কয়েকমাস ধরে নতুন করে এই অঞ্চলের শিয়া ও সুন্নি গোত্রের মধ্যে সংঘাত দানা বেঁধে উঠেছে। জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাভেদউল্লাহ মেহসুদ জানান, স্থানীয় গোত্রপ্রধানদের কাউন্সিল গঠন করে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। নাম না প্রকাশের শর্তে অপর এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান, অঞ্চলটির পরিস্থিতি থমথমে। স্থানীয়রা জেলার প্রধান শহর পারাচিনারে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন। তিনি বলেন, কুররামের দুই অংশের সংযোগ স্থাপনকারী মূল সড়কে কারফিউ জারির পাশাপাশি বাজারও বন্ধ রাখা হয়েছে। সব ধরনের পরিবহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
সুন্নিপ্রধান পাকিস্তানে গোত্র ও পারিবারিক সংঘর্ষ খুবই সাধারণ ঘটনা। বিশ্লেষকরা জানান, দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে শিয়ারা বৈষম্য ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। চলতি বছর জুলাই-সেপ্টেম্বরের সংঘর্ষে অসংখ্য মানুষ নিহত হন। সেবার জিরগার মাধ্যমে এর অবসান ঘটানো হয়েছিল। এর আগে সেপ্টেম্বরে উত্তর-পশ্চিমে আফগান সীমান্তের কাছে অবস্থিত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে টানা ছয় দিন ধরে শিয়া ও সুন্নি গোত্রের মুসলিমদের মধ্যে সংঘাত চলে। সেই সংঘাতে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছিলেন। কোহাত বিভাগের কুররাম জেলার শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এককালে এ অঞ্চলটি অর্ধ-স্বায়ত্তশাসিত ছিল। গত কয়েক বছরে এ ধরনের সংঘাতে এই এলাকার হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। তার আগে জুলাই মাসে জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদে এই দুই সম্প্রদায়ের সংঘাতে ৩৫ জন নিহত হন। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিবাদ সাম্প্রতিক সময়ে দুই গোত্রের মধ্যে পূর্ণ মাত্রার সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এতে অটোমেটিক ও সেমি-অটোমেটিক অস্ত্রের পাশাপাশি মর্টারের গোলাও ব্যবহার করা হচ্ছে। যা বেসামরিক জানমালের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে।
পাকিস্তানে সুন্নি মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৪ কোটি। তার মধ্যে শিয়া মুসলিম রয়েছেন মাত্র ১৫ শতাংশ।
