কুমিল্লার মুরাদনগরে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে এক ইউনিয়নে ১৬টি ইটভাটা গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা। উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নে এসব ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে ওই এলাকার কৃষিজমি, গাছপালা ও পরিবেশ। ইতিমধ্যে ইটভাটার অব্যাহত বায়ুদূষণে এলাকাটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মনীতি না মেনে ফসলি জমিতে এসব ইটভাটা স্থাপন হলেও এগুলো বন্ধে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেই।
সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ফসলি কৃষিজমিতে একের পর এক ইটভাটা গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালীরা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে এসব ভাটায়। ট্রাকে করে এসব ইটভাটার মাটি ও ইট পরিবহনের কারণে ভেঙে পড়েছে ইউনিয়নের অনেক রাস্তা। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আশপাশের বাড়িঘর। চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কৃষিজমি। ফল হচ্ছে না অনেক গাছে।
কৃষিজমিতে ভাটা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কৃষি বিভাগের ছাড়পত্র পেয়ে ভাটা স্থাপনের অনুমতি পেয়ে যাচ্ছেন ভাটা মালিকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটা-সংলগ্ন বাসিন্দারা বলেন, যেসব জমিতে ভাটা গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে ধান ও সবজি চাষ হতো। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে আশপাশের সব জমি এখন আবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষিজমির মাটি কেটে ভাটায় নেওয়ায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে করে এসব গর্তের আশপাশের জমি ভেঙে পড়ছে।
সূত্রে জানা যায়, গুঞ্জর, নগরপাড়, গকুলনগর ও বাখরনগর গ্রাম নিয়ে গঠিত এই ইউনিয়নের ৩০ হাজার ৭৩৯ জন মানুষের বসবাস। অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ ইং-এর ৫ (১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা হইতে মাটি কাটিয়া বা সংগ্রহ করিয়া ইটের কাঁচামাল হিসাবে উহা ব্যবহার করিতে পারিবেন না।’ একই আইনের ৮-এর (১) (ক) ধারায় আবাসিক, সংরক্ষিত বা বাণিজ্যিক এলাকা এবং (ঘ) ধারায় কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুল মালেক, আনোয়ার ও রিয়াজ বলেন, ঋণ করে মাঠে ধানের চারা রোপণ করেছি। গাছে শিষও এসেছিল। কিন্তু ইটভাটার ধোঁয়ায় তাদের স্বপ্নের সোনালি ফসল পুড়ে অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষক জুয়েল বলেন, ‘ইটভাটার ধোঁয়ায় আমাদের সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এ জায়গা থেকে আগে ধান চাষ করে ঘরে তুলেছি। যখন ইটভাটা করা শুরু হয়েছে, তখন থেকেই আমরা আর ধান চাষ করতে পারি না। ইটভাটার ধোঁয়ায় আমাদের সব ধান নষ্ট হয়ে যায়।’
আবু তাহের নামে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বলেন, ‘আমাদের সারা বছরে একটাই ফসল হয়। সেই ফসল নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।’
এ মদিনা ইটভাটার মালিক আবুল কাশেম বলেন, ‘আমরা কাগজপত্র আপডেট করে ইটভাটা করেছি।’ তিনি দাবি করেন, এখানে তেমন কোনো ফসল হয় না।
এ বিষয়ে নবীপুর ইউপির চেয়ারম্যান কাজী আবুল খায়েরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, অনেক আগে থেকে এ ভাটাগুলো গড়ে উঠেছে। নতুন আইনে অনেক ভাটা অবৈধ। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
