তিন মাসেও খোঁজ মেলেনি মহসিনের

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:০০ এএম

হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তার ক্ষেত্রে ঘটেছে বহুবার। তবে এবারের মতো হয়নি কখনো। গত ২৫ আগস্ট উদোম শরীরে মালিবাগের বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলকিপারের স্বীকৃতি পাওয়া মোহাম্মদ মহসিন। এরপর থেকেই মিলছে না কোনো খোঁজ। দেখতে দেখতে তিন মাস হয়ে গেল, সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজেও পাওয়া যায়নি তাকে।

এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। তবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা মহসীন এর আগে ক’দিন পর নিজে থেকেই ফিরে আসেন মালিবাগের বাসায়। তবে এবার তেমনটা না হওয়ায় পাগলপারা মহসিনের পরিবারের সদস্যরা। ছোট ভাই কোহিনূর পিন্টু উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বড় ভাই নেই তিন মাস। বাসে, ট্রেনে পোস্টারিং করেছি। মতিঝিল, মগবাজারেও পোস্টার লাগানো হয়েছে। রমনা ও কমলাপুর থানায় জিডি করেছি। মিডিয়ায় নিখোঁজ সংবাদও হয়েছে। এরপরও ভাইকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।’

আশি-নব্বই দশকে তুমুল জনপ্রিয় এই গোলকিপার দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম শারীরিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত। ১৯৯৫ সালে খেলা ছাড়ার পর পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর কানাডায়। বিয়ে করে চেয়েছিলেন স্থায়ী হতে। তবে সেই বিয়ে  টেকেনি। প্রবাসের যান্ত্রিক জীবনের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারেননি। ২০১৪ সালে অনেকটা নিঃস্ব, বিপর্যস্ত অবস্থায় দেশে ফিরে এসেছিলেন। জীবন যুদ্ধে হারের হতাশায় মুষড়ে পড়ে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর অবহেলায় শরীরেও বাসা বাঁধে নানা রোগবালাই। তবে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানকে একেবারে ভুলে যায়নি। তার অসুস্থতার বিষয়টি চাউর হওয়ার পর সমাজের অনেকেই তাকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে হাত বাড়ান।

এক বছরের বেশি সময় আগে সতীর্থ, শুভাকাক্সক্ষী, বন্ধু-বান্ধবের কল্যাণে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান নিয়েছিলেন সব চিকিৎসার দায়িত্ব। তার তৎপরতায় বোর্ড বসিয়ে মহসিনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরপর কিছুটা সুস্থ হলে তাকে মা-ভাইয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বাসাতেই চলছিল তার চিকিৎসা। পিন্টু আরও বলেন, ‘তার কাছে টাকা-পয়সা, মোবাইল কিছু নেই। শরীরও অসুস্থ। এতদিন কোথায় কীভাবে আছে ভাবলেই গা শিউরে উঠছে।’

দেশের ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলকিপার মহসিনের খোঁজ পাওয়া গেলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে রমনা অথবা কমলাপুর থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত