গত নির্বাচন কমিশনের বিচার দাবি

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০২:১৯ এএম

পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করা এবং সংবিধান লঙ্ঘন করায় আগের নির্বাচন কমিশনারদের বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করেছেন নাগরিক ও শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ও সংহত করা এবং বাজেটীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া, সংসদে নারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সুপারিশও করেছেন।

গতকাল রবিবার নাগরিক ও শিক্ষক সমাজের বৈঠক শেষে এ কথা জানান নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারবিষয়ক কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। রাজনৈতিক দল ও গণতন্ত্রের ব্যাপারেও তারা একমত। রাজনৈতিক দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা আশা করা যায় না।’

সংস্কার কমিশনপ্রধান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যাপারে অনেক আলোচনা হয়েছে। সরাসরি নির্বাচনের ব্যাপারে অনেকে বলেছেন এবং রাষ্ট্রপতি পদটিকে আরও সংহত করার কথা বলেছেন। নারীদের সরাসরি নির্বাচন এবং তাদের নির্বাচনী এলাকা থাকার পক্ষে সবাই মত দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের আইন পরিবর্তনের কথাও বলেছেন।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ‘আলোচনায় সংসদে নারীপ্রতিনিধিত্বের বিষয়টি এসেছে। সংরক্ষিত আসনে নারীর প্রতিনিধিত্ব যথাযথ হয় না এবং নারীরা এতে সম্মানিত বোধ করেন না। নারীদের নিজস্ব এলাকাও নেই। নারীদের আসন ১০০টি করে তাতে সরাসরি নির্বাচনের কথাও এসেছে। এ ছাড়া সমাজের অন্যান্য শ্রেণি-পেশার, যেমন সংখ্যালঘিষ্ঠ জনগণ, আদিবাসী জনগণ, শ্রমিক শ্রেণি, কৃষক শ্রেণি এবং শিক্ষার্থীদের, যারা আন্দোলন করেছে, প্রতিনিধিত্বের কীভাবে করা যায় সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’

সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘ইলেক্টোরাল গভর্ন্যান্স বিষয়ে কথা বলেছি। সুষ্ঠু ইলেক্টোরাল গভর্ন্যান্স থাকলে আগামীর নির্বাচন আরও সুষ্ঠু হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের যে ভূমিকা থাকা দরকার সে বিষয়েও কথা বলেছি। সভায় আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানেও অভিমত ব্যক্ত হয়েছে। অনেকে বলেছেন, এটা মিশ্র পদ্ধতিতে হওয়া উচিত। নির্বাচনী সীমানা নির্ধারণে যেন পক্ষপাতিত্ব না হয়। নির্বাচনে দলগুলোর অর্থায়ন যেন স্বচ্ছভাবে হয়।’

নির্বাচন ব্যবস্থায় ‘না’ ভোট রাখাসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘প্রার্থীদের মধ্যে কাউকে পছন্দ না হলে যেন “না” ভোট দেওয়া যায়। নির্বাচনে কারও প্রতি অন্যায় হলে তিনি মামলা করেন। সেই মামলার নিষ্পত্তি হতে হতে টার্ম (নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ) চলে যায়। তখন ওই লোক বিচার পান না। তাই নির্বাচন কমিশনের মধ্যে একটা বিচারের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। যাতে নির্বাচন কমিশনই দ্রুত সেটার বিচার করতে পারে এবং ওই লোক বঞ্চিত না হন।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারবিষয়ক কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, সদস্য মো. আবদুল আলীম, জেসমিন টুলী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত