চট্টগ্রামে ব্যাটারিরিকশার দাপটে অসহায় পুলিশ!

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:২১ এএম

তিনদিন আগে হালিশহরের ওয়াপদা এলাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশার খোঁজে মূল সড়কে আসেন আমজাদ হোসেন। সড়কে উঠতেই ব্যাটারিচালিত রিকশার কিশোর বয়সী এক চালক বেপরোয়া গতিতে মোড় ঘুরতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয় তাকে। এতে মাটিতে পড়ে গিয়ে হাত ও মাথায় আঘাত পান তিনি। সঙ্গে থাকা পরিবারের লোকজন আমজাদকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান। তার আগে গত অক্টোবরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ইয়াসিন মোহাম্মদ স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যান পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে। সে সময় রিং রোডে তীব্র গতিতে ছুটে আসা ব্যাটারিচালিত একটি রিকশার আঘাতে আহত হন ইয়াসিন ও তার স্ত্রী। ওই রিকশাটিও চালাচ্ছিলেন এক কিশোর চালক। এই দুটি ঘটনার মতো চট্টগ্রাম নগরে প্রায়ই ব্যাটারিরিকশায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এমনকি এসব দুর্ঘটনা কখনো কখনো কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ। গত দুই মাস থেকে ট্রাফিক পুলিশ প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে অভিযান চালিয়ে বহু ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করলেও কোনোভাবেই বন্ধ হচ্ছে না অনিরাপদ এই বাহনের চালকদের দৌরাত্ম্য। বরং দিনে দিনে তাদের বেড়েছে গতি ও সাহস। এমন পরিস্থিতিতে নগরবাসী সমালোচনা করে বলছে, ব্যাটারিরিকশার গতির কাছে হার মানছে পুলিশ। এমনকি মূল সড়কেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিরিকশার চালকরা। ব্যাটারিরিকশার এই নৈরাজ্য ঠেকাতে কিছু নীতিমালা প্রণয়নসহ এগুলোর উৎপাদন ও আমদানি বন্ধের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার মূল সড়কগুলোতে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাটারিরিকশা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। এরপর বিভিন্ন স্থানে এসব রিকশার চালকদের আটক ও মামলা দেওয়া হলেও থামানো যায়নি তাদের গতি। পুলিশ দেখলে অতিরিক্ত গতিতে রিকশা চালিয়ে নিয়ে চলে যায়, না হয় যাত্রীকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে না দিয়ে মাঝপথে নামিয়ে দেয়। ইঁদুর-বিড়াল খেলার মতো সারা দিন ট্রাফিক বিভাগের সদস্যদের সঙ্গে দৌড় চলে এসব ব্যাটারিরিকশার চালকদের।

নতুন ব্রিজ এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিকের এক সদস্য বলেন, ‘প্রতিদিন একশ’র ওপর এ রিকশা জব্দ করে আমরা ডাম্পিংয়ে পাঠাই। এতে করে দুই-একদিন তারা মূল সড়কে নামে না, কিন্তু অলিগলিতে ঘুরে বেড়ায় এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। আমরা তাদের পেছনে ছুটতে ছুটতে হয়রান হয়ে গেছি।’ এ ব্যাপারে ট্রাফিক পশ্চিমের উপকমিশনার নিষ্কৃতি চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিদিন আমার বিভাগে শতাধিক ব্যাটারিরিকশা জব্দ করা হচ্ছে। কিন্তু তাতেও তাদের দমানো কঠিন হয়। কারণ এসব রিকশার কোনো কাগজ থাকে না। আমরা আটক করে মামলা দিলেও মামলার অর্থ সামান্য থাকায় তারা সে টাকা দিয়ে গাড়ি কদিন পর ছাড়িয়ে নেয়। আমরা সে সময় তাদের থেকে অঙ্গীকার করালেও তারা পরের দিন অন্য কাউকে দিয়ে সে রিকশা সড়কে নামাচ্ছে। এতে করে ওই একই ব্যক্তি রিকশা নিয়ে না নামলেও অন্য একজনকে দিয়ে একই রিকশা সড়কে চলছে এবং দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। আর এ রিকশার বিষয়ে আইনের বাইরে আমাদের কিছু করার সুযোগ থাকে না।’ সিএমপির গণসংযোগ বিভাগ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ট্রাফিকের ৪ বিভাগে জব্দ করা হয় ৫,১০৯টি ব্যাটারিরিকশা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত