বাবার মতো না, দিবু মার্তিনেজ হতে চান 'ডিয়েগো ম্যারাডোনা'

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:০৮ পিএম

আজ ডিয়েগো আরমান্দো  ম্যারাডোনার তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তার ছোট ছেলে ডিয়েগো ফার্নান্দো ম্যারাডোনা বাবার স্মৃতির ছায়ায় জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাটাচ্ছেন। বাবার সঙ্গে থাকা মুহূর্তগুলো তার কাছে এখনো জীবন্ত।

মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচারের পরবর্তী শারীরিক জটিলতায় আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনা মৃত্যুবরণ করেন ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, তখন ডিয়েগো ফার্নান্দোর বয়স মাত্র ৭। এখন ১১ বছরের ডিয়েগো বলেন, “আমি জানতাম আমার বাবা কীভাবে খেলতেন। আমি ছিলাম তার বড় ভক্ত।'' বাবার অসাধারণ গোলগুলো নিয়ে তার দারুণ আগ্রহ, ''তার গোলের ভিডিওগুলো দেখি, বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা সেই গোলটা। সেটা আমার সবচেয়ে পছন্দের।”

বাবার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করে ডিয়েগো বলেন, “সেই সময়গুলো মনে পরে যখন বাবা আমাকে ফোন করতেন। আমরা কত কথা বলতাম, কত হাসতাম। এখন আমি বুঝি, সেই ফোন কলগুলো আমার জীবনের সবচেয়ে দামি মুহূর্ত।”

স্বপরিবারে ডিয়েগো ম্যারাডোনা

ডিয়েগো ফার্নান্দোর জীবনের প্রতিটি ধাপে তার মা ভেরোনিকা ওজেদা তাকে শক্তি দিয়ে আগলে রেখেছেন। ভেরোনিকা বলেন, “ডিয়েগো ফার্নান্দোকে প্রতিদিন সঠিক পথে এগিয়ে নিতে আমি এবং তার থেরাপিস্টরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।” ডিয়েগো ফার্নান্দোর সঙ্গে তার ভাই-বোনদের সম্পর্কও মধুর। দালমা, জিয়ানিনা, জানা, এবং ডিয়েগো জুনিয়রের মতো বড় ভাইবোনেরা তাকে ঘিরে রেখেছেন স্নেহ এবং ভালোবাসায়। একসঙ্গে তারা অংশ নিয়েছেন ম্যারাডোনা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে, যা তাদের বাবার স্মৃতিকে অমর করে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। তার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাবার প্রতি প্রতীকী শ্রদ্ধা জানাতে আগামী বছর থেকে আর বেলা ভিস্তা কবরস্থানে যেতে হবে না। ম্যারাডোনার দেশের অবশিষ্টাংশ একটি স্মৃতিসৌধে থাকবে, যা আর্জেন্টিনীয়দের জন্য বিনামূল্যে এবং পর্যটকদের জন্য অর্থপ্রদান সাপেক্ষে উন্মুক্ত থাকবে।

নিজের ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে ম্যারাডোনাপুত্র বলেন, “আমি (বাবার মতো) ফুটবল খেলতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমার খেলা খুব খারাপ। এখন আমি গোলরক্ষক হতে চাই, দিবু মার্টিনেজের মতো।”

তবে বাবাকে ঘিরে চারপাশের এত ভালোবাসা ও স্মৃতি তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। “যখন আমি এত মানুষের মুখে বাবার কথা শুনি, তখন আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। আমি তাকে খুব মিস করি। কিন্তু আমি জানি, তিনি আমাদের সবার হৃদয়ে বেঁচে আছেন।”

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত