ঢাকাই চলচ্চিত্রে মার্শাল আর্টের প্রবর্তক তিনি। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এই আর্টকে জনপ্রিয় করেছেন দেশে। তার যোগ্য উত্তরসূরি চিত্রনায়ক রুবেল। তিনি জাহাঙ্গীর আলম, চলচ্চিত্রে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর আলম নামে পরিচিত। এই অভিনেতাকে পাওয়া গেল ঢাকা থেকে বহুদূরে, কক্সবাজারে। সেখানেই এক সন্ধ্যায় তার মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন
বাংলাদেশে মার্শাল আর্ট
সেটা ৭০ সালের দিকের সময় হয়তো। আমাদের বাড়ি কক্সবাজার। তখন কক্সবাজারের সঙ্গে বার্মার (মায়ানমার) যোগাযোগ খুবই ভালো। আমাদের আত্মীয় কিছু স্বজন বার্মা থাকতেন। প্রায়ই সেখানে আমার যাওয়া হতো, কারণ তখন নদীপথে নৌচলাচল ছিল খুবই সহজ। সে সময় বার্মায় দেখতাম সেখানে মার্শাল আর্ট হতো। আমার কাছে বিষয়টি খুবই আকর্ষণীয় মনে হলো। আমিও শেখার আগ্রহ প্রকাশ করলাম। এক সময় সেখানে মার্শাল আর্ট শিখলাম। আমাদের দেশে এটা সম্পর্কে কারও ধারণা নেই। মনে হলো এই আর্টকে দেশে কাজে লাগানো যায়, এমনই ভাবনা এলো। প্রথমে কক্সবাজারে ক্লাব বানিয়ে মার্শাল আর্ট শেখানো শুরু করলাম। পরে চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ক্লাব গড়ে তুলি। সারা দেশে মার্শাল আর্টের ক্লাব ৬০০ এর বেশি।
চলচ্চিত্রে মার্শাল আর্ট
এটা ৭৯ সালের দিকের কথা। তখন আমি মার্শাল আর্টের জাতীয় প্রশিক্ষক। সে সময়ের সুপারহিট নায়ক সোহেল রানা আমার মার্শাল আর্ট দেখলেন। অভিভূত হলেন। তিনিও নিজে মার্শাল আর্ট সিনেমায় দেখাতে চান। আমাকে বললেন, তিনি মার্শাল আর্ট শিখতে চান। এরপর তাকে মার্শাল আর্ট শেখালাম। আমাকে সোহেল রানা ফাইট ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত করলেন তার সিনেমায়। দর্শক সিনেমায় মার্শাল আর্ট দেখতে পেল প্রথমবার, এটা সোহেল রানার মাধ্যমেই। পরে চিত্রনায়ক রুবেলও আমার কাছে মার্শাল আর্ট শিখতে এলো। তাকে আমার শিষ্য বানালাম। এরপর তো সবাই জানে।
যেভাবে সিনেমায়
আমি সোহেল রানাকে মার্শাল আর্ট শেখাই, একইসঙ্গে ফাইট ডিরেক্টরের কাজ করি। তো একটা সিনেমায় সোহেল রানা বললেন, আপনি অভিনয় করেন। আমি অভিনয়ে রাজি না। তখন সোহেল রানা বললেন, তাহলে আপনি মুখোশ পরে ফাইটের দৃশ্যটা করেন। তবে শেষ মুহূর্তে মুখটা দেখাবেন। পরে ভাবলাম যেহেতু দেখাব তাহলে প্রথম থেকেই দেখাব। সেই দৃশ্যটা করলাম। দর্শকরা লুফে নিল। একবার মতিঝিলের এক অফিসে গিয়েছি, সেখানের লোকজনের মুখে সেই ফাইটের কথা শুনছি, তারা জানে না যে আমিই সেই ব্যক্তি। এভাবেই অভিনয়ে প্রবেশ।
চিত্রনায়ক
তখন আমি নিয়মিত অভিনয় করছি। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমি খল চরিত্রে কাজ করছি। নায়কের হাতে মার খাই। তো একদিন আমি চট্টগ্রামে আমার মার্শাল আর্টের ক্লাবে এসেছি। সেখানে সব শিষ্য আমাকে ঘিরে ধরল। তারা বলল, ওস্তাদ আপনি আর মার খেতে পারবেন না। আমি অবাক। তাদের কথা বুঝতে পারলাম না। তারা বলল, ওস্তাদ সিনেমায় আপনাকে মার খেতে দেখে ভালো লাগে না। তখন বললাম তাহলে আমি নায়ক হিসেবে ছবি করতে হলে তো টাকা লাগবে। তখন সবাই মিলে চাঁদা দিল। অনেক টাকা উঠল, ২০ লাখ। নায়ক হিসেবে প্রথম সিনেমা করলাম, নাম মাস্টার সামুরাই। সেই সিনেমা দুই কোটি টাকা ব্যবসা করল।
এখন যেমন
কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভের কাছে একটি রিসোর্ট করেছি। এই রিসোর্টের নাম ওস্তাদ জাহাঙ্গীর রিসোর্ট। এর চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে রয়েছেন আমার ছোট ভাই চিত্রপরিচালক এম রহিম। সাধারণ মানুষ ছাড়াও কক্সবাজারে চলচ্চিত্রের যারা আসে, তারা থাকে এখানেই। বলতে পারেন এটা এফডিসির কক্সবাজার শাখা। এছাড়াও কক্সবাজারে আমরা একটি প্যানেল বসিয়েছি। এখানে চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করব। জানেনই তো এখানে দুর্দান্ত সব লোকেশন রয়েছে। সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ডিজিটাল প্রেম নামে একটি চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেছি। শিগগিরই চলচ্চিত্রে ফিরব নতুনভাবে।
এক নজরে
ফাইট ডিরেক্টর হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র- জাদু নগর
নায়ক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র- মাস্টার সামুরাই
প্রযোজক হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র- মার্শাল হিরো
