চট্টগ্রামে চিত্র প্রদর্শনী, গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোতে ফিরে গেল নগরবাসী

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৪, ০৮:৪১ পিএম

সন্ধ্যা নামার সাথে অন্ধকার হতে শুরু করেছে আকাশ কিন্তু কাজির দেউরির মুক্তমঞ্চে তখনও অনেক আলো। কাছে যেতেই দেখা মেলে প্রজেক্টরে একের পর এক প্রদর্শিত হচ্ছে ভিডিও চিত্র। চা খেতে খেতে কিংবা আড্ডার ফাঁকে সেসব ভিডিও চিত্র দেখছেন নানা বয়সী মানুষ। আবার হাটতে হাটতে সেইসব ভিডিও চিত্র দেখে থমকে যাচ্ছে পথচারীরা। একপর্যায়ে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। বিরক্ত হওয়ার বদলে সেসব ভিডিও দেখে কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হচ্ছে, কেউ কেউ শ্লোগানও দিচ্ছিল। যেন ফিরে গেছে আওয়ামী লীগ ও পুলিশকে প্রতিহত করা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সেই উত্তাল জুলাই-আগস্টের দিনগুলোতে।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এমন চিত্রই দেখা গেল চট্টগ্রাম নগরীর কাজির দেউরি মুক্তমঞ্চে। দ্রোহ-কান্নার জুলাই শিরোনামে অভিনব এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে স্টোরিটেলিং প্ল্যাটফর্ম ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজ।

রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের গুলি খাওয়ার দৃশ্য দিয়ে শুরু হয় এই প্রদর্শনী। এরপর একে একে আন্দোলনের দিনগুলোর নানা ঘটনাপ্রবাহ উঠে আসে ভিডিওতে। ‘কোটা না মেধা? মেধা মেধা’শ্লোগানের দিনগুলোতে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা। তারপর দেখা যায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের পেটোয়া বাহিনীর হামলার দৃশ্য। নারী শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য শিক্ষার্থীর ওপর রক্তাক্ত হামলার দৃশ্যগুলো উঠে আসে। সেসব হামলার পরও শিক্ষার্থীদের বুক উঁচিয়ে দাঁড়ানোর গল্প উঠে আসে প্রদর্শনীতে। তারপর যুদ্ধে বিভীষিকা বেজে ওঠার মতো একে একে আসতে থাকে পুলিশের গুলিতে ছাত্র নিহত হওয়ার ভিডিও। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের দ্বারা একের পর এক নির্যাতনের দিনগুলো দেখে আঁতকে ওঠে আবারও সবাই। তারপর চালানো হয় বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র দ্বারা নির্মিত আন্দোলনের কিছু প্রামাণ্যচিত্র। এই অনুষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় ছিল গণযোগাযোগ অধিদপ্তর।

এই আয়োজনের বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সার্চ কমিটির সদস্য এবং ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজের পরিচালক সাইদ খান সাগর বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাসজুড়ে চলা আন্দোলন সংগ্রামে মারা গেছেন প্রায় ২ হাজার বিভিন্ন বয়সের, শ্রেণি পেশার মানুষ। যেমন ছাত্র আবু সাইদ, মুগ্ধ আছেন তেমনই আছেন রিকশাচালক মানিক মিয়া, শিশু রিয়া গোপসহ অনেকেই। অসংখ্য মানুষের অঙ্গহানি হয়েছে, চিরতরে চোখ হারিয়েছেন হাজারো মানুষ। অগণিত মায়ের বুক খালি হয়েছে। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সোশ্যাল মিডিয়া। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেসময়ে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হতে থাকে আন্দোলনের বিভিন্ন ফুটেজ। সেসব সংগৃহীত ফুটেজ কালেকশন করে স্টোরিটেলিং প্ল্যাটফর্ম ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজ।

প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাব্বির ইকবাল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের সংস্কৃতি বিনির্মাণে নতুন এক উপলক্ষ হয়ে উঠবে। এ সময় আরো বক্তব্য দেন ফেইল্ড ক্যামেরা স্টোরিজ এর সংগঠক আবু নাছের আলিফ, ইসলাম জিশাদ, মাহতামুন ফাহিম, অহনা বড়ুয়া, সাইফুল্লাহ নাদিম প্রমুখ। তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ভিডিও চিত্র দেখেন শতাধিক মানুষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত