ফেনীর সোনাগাজী, ছাগলনাইয়া ও পরশুরাম উপজেলার নদী থেকে বালু তোলার মচ্ছব চলছেই। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত ও উন্নয়ন প্রকল্পের নামে তোলা হচ্ছে এসব বালু। জেলায় নতুন করে প্রায় ২০টি স্থানে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত নদীর আশপাশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ভিটে হারাচ্ছেন হাজারো মানুষ। নদীতে বিলীন হচ্ছে একের পর এক কৃষিজমি। ঝুঁকিতে পড়েছে রেল ও সড়ক সেতু। হারিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি-গাছপালা।
গত ২২ সেপ্টেম্বর ফেনীর ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছোট ও বড় ফেনী নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ ও অবৈধভাবে বালু জব্দ করে লাল পতাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেনী জেলায় মোট আটটি বালুমহাল রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটির ইজারা হলেও তিনটির ইজারাদার মিলেনি। এর মধ্যে সোনাগাজী উপজেলার দুটি বালুমহাল ইজারা নিয়েছেন ফাজিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল হক রিপন। ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলার দুটি বালুমহালের ইজারা নিয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাইল হায়দার চৌধুরীর সোহেলের ভাই রফিকুল হায়দার চৌধুরী এবং পরশুরাম উপজেলার একটি বালুমহালের ইজারা নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মীর আহমেদ চৌধুরী। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইজারাদাররা পলাতক।
সরেজমিন দেখা যায়, সোনাগাজী মুহুরী প্রকল্প এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে এ এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে পাঁচটি স্থান থেকে হাজার হাজার ঘনফুট বালু তোলা হচ্ছে। এমনকি মুহুরী রেগুলেটর ব্রিজ ও শুভপুর ব্রিজের কাছ থেকেও বালু তুলতে দেখা গেছে। এতে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে নবনির্মিত মুহুরী ব্রিজ ও শুভপুর ব্রিজ।
এসব বালুবাণিজ্যে প্রভাবশালী মহল জড়িত থাকায় স্থানীয় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে রাজি হননি। দিন-রাত ফেনী নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলে তীরে রাখা হচ্ছে। পরে বালু শুকিয়ে গেলে ট্রাকে তা অন্যত্র নিয়ে বিক্রি করা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, বর্তমানে স্থানীয় যুবদলের দুটি গ্রুপের নেতৃত্বে এখানে বালুমহাল পরিচালিত হচ্ছে। একটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশেদ আলম। অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছেন যুবদলের সদস্য সচিব ইমাম হোসেন প্রভির। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করেন তারা।
সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান বলেন, ‘নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমরা তৎপর রয়েছি। বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জেলার বালু মহালগুলোর ইজারাদারদের বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার জন্য ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ ফেনী নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘অবৈধভাবে কাউকে বালু উত্তোলন করতে দেখলে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
