অ্যান্টিগায় ২০১ রানের ব্যবধানে হেরে যাওয়া দলটি প্রথম ইনিংসে করল ১৬৪। অথচ সেই দলই জ্যামাইকায় পাশার দান পাল্টে দিল দুর্দান্ত বোলিং আর দ্বিতীয় ইনিংসে সাহসী ব্যাটিংয়ে। ১৮ রানের লিডের সঙ্গে তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান তুলে ২১১ রানে এগিয়ে চতুর্থ দিন সকালে খেলতে নামে বাংলাদেশ। উইন্ডিজ ভেবেছিল ২৭৫ রানের লিড হলেও ম্যাচটা জিতবে তারা। জাকের আলির ৫ ছক্কায় ৯১ রানের ইনিংসে ভর করে ২৬৮ রান তুললে স্বাগতিকদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৮৭। স্যাবাইনা পার্কের এই মাঠে ২১২ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই তাই স্বাগতিকদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায় সে লক্ষ্য। রান তাড়া করতে নেমে উইন্ডিজ ১৮৫ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশ জিতে ১০১ রানে। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম একাই নিলেন ৫ উইকেট। বাকি ৫টি তিন পেসার মিলে।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে তাইজুল বলেন, ‘আমার বোলিং নিয়ে বলতে পারেন আমি সন্তুষ্ট। কারণ দলের যখন যেটা চাওয়া ছিল, পূরণ করতে পেরেছি।’
নিয়মিত অধিনায়ক ও অভিজ্ঞদের ছাড়া বিরুদ্ধ কন্ডিশনে দলের জয় ও সিরিজ ড্র করতে পেরে বেশ তৃপ্ত তাইজুল, ‘অবশ্যই আমাদের বাংলাদেশ দলের জন্য এটা অনেক বড় পাওয়া। কারণ, এই দলে বেশ কিছু তরুণ ছেলে ছিল। সবার মধ্যে ওই ব্যাপারটা ছিল যে, ম্যাচ জিতব।’
চতুর্থ দিনের চা-বিরতির সময় উইন্ডিজের স্কোর ছিল ৩৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৩৩ রান। তখন কেভাম হজ ৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যান্টিগার সেঞ্চুরিয়ান গ্রিভস। চা-বিরতি থেকে ফিরে ১৬ ওভারের মধ্যে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশের বোলাররা।
নাজমুল হোসেন শান্তর অবর্তমানের অধিনায়কত্ব করা মেহেদী হাসান মিরাজ দারুণ খুশি এই জয়ে, ‘প্রথম ম্যাচ হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচ জিতেছি, এটা অবশ্যই আমার জন্য বড় একটা অর্জন। যেহেতু আমি প্রথম অধিনায়কত্ব করছি, এটা আমার জন্য বড় একটা পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। জয়ের কৃতিত্ব দিতে চাই সব খেলোয়াড়কে। আমি যেভাবে পরামর্শ দিয়েছি, সবাই মেনে নিয়েছে। কন্ডিশনটা সহজ ছিল না। সবাই চেয়েছিল মন থেকে ম্যাচটা জেতার জন্য। এর জন্যই আমরা ম্যাচটা জিততে পেরেছি।’
সিরিজসেরা যৌথভাবে হয়েছেন উইন্ডিজের জেডন সিলস ও তাসকিন আহমেদ। সিরিজে তাসকিন নিয়েছেন ১১ উইকেট। তাসকিন বলেন, ‘আশা করি, মেনি মোর টু কাম। কাঁধের সমস্যা কাটিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার অনেক চেষ্টা করছিলাম। এখন আগের চেয়ে ভালো আছে। আশা করছি এমন আরও অর্জন হবে সামনে। আমি খুবই খুশি।’
