মিরপুরে আয়ারল্যান্ডকে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার সময় নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেছিলেন, আমরা যা করছি তাই রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে। ফরম্যাট বদলে টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে রেকর্ড গড়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের মেয়েদের সামনে। কিন্তু এবার আর রেকর্ড হয়নি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৭০ রান তাড়ায় ১০৩ রানের রেকর্ড জুটি গড়েও ১২ বলে ১৮ রানের সমীকরণে পৌঁছে গিয়েছিল দল। কিন্তু ১৯তম ওভার মেডেন দেওয়ায় শেষ ওভার লক্ষ্যটা অর্জন করতে পারেননি ১২ বলে ২২ রানে অপরাজিত শারমিন আক্তার সুপ্তা। জেতা ম্যাচ হারার বেদনায় পুড়তে হয়েছে তাই দলকে।
টি-টোয়েন্টিতে মেয়েদের ২০০ রানের ইনিংস থাকলেও তা আগে ব্যাট করে। পরে ব্যাট করে সর্বোচ্চ ১৪৬ রান করে জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। সেই রেকর্ড ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের দুই ওপেনার সোবহানা মোস্তারি ও দিলারা আক্তার আইরিশ ফিল্ডারদের একাধিকবার সুযোগ দিয়েও বেঁচে যান। প্রথম ছয় ওভারে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৫৬ রান। ১১.১ ওভারেই দল তুলে ফেলে ১০০ রান। কিন্তু এরপরই শুরু হয় ছন্দপতন।
৪৬ রানে সোবহানা আউট হওয়ার পরই ধাক্কা সামলাতে ব্যর্থ হন বাকিরা। ৪৯ রানে দিলারা ফিরে গেলে আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয়। ফিফটির এক রানের দূরত্বে থাকা দিলারার ব্যাট থেকে আসে ৪১ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৪৯ রান। এরপর চার রান করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। তাজ নেহার (১), রিতু মনি (০), জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা (০) সবাই দ্রুত ফিরে যান। শেষদিকে শারমিন আক্তারের অপরাজিত ২৩ রানের ইনিংস স্রেফ পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে। ৭ উইকেটে ১৫৭ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৬ রানেই ওপেনার অ্যামি হান্টারকে হারায় আয়ারল্যান্ড। কিন্তু এরপরই দলের স্কোরবোর্ডে ঝড় তোলেন লিয়াহ পল ও গ্যাবি লুইস। পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৩৫ রান করলেও প্রথম ১০ ওভারে তাদের দাঁড়ায় ৬৭ রান। এরপর ১১ থেকে ১৫ ওভারে দুজন মিলে তোলেন ৬৩ রান। গ্যাবি লুইস ৪২ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৬০ রান। অপরাজিত থাকা লিয়াহ পল খেলেন ৪৫ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভারে আয়ারল্যান্ড থামে ৫ উইকেটে ১৬৯ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন জাহানারা আলম, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা, নাহিদা আক্তার ও রিতু মনি। তবে ম্যাচ জুড়ে ফিল্ডিংয়ের ভুল ও বোলিংয়ের ধারহীনতা টাইগ্রেসদের পিছিয়ে দিয়েছে।
