নারায়ণগঞ্জেও ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। শুষ্ক মৌসুম হলেও শহরে দুটি সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলাগুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের ভিড়। অথচ এসব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। অব্যবস্থাপনার কারণে সরকারি হাসপাতালগুলোয় যায় না বেশিরভাগ আক্রান্ত রোগী। এর প্রভাব পড়েছে ডেঙ্গুর হিসাবে। নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে (১ জানুয়ারি-৪ ডিসেম্বর) জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬১৪ জন। অথচ জেলা সদরের চারটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারেই গত এক মাসে পাঁচ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরে নারায়ণগঞ্জ জুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও প্রতিরোধে দেখা যায়নি কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশার ওষুধ ছিটানো হলেও সেটাকে আইওয়াশ বলছে নগরবাসী। অন্যদিকে সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, দালালদের দৌরাত্ম্যসহ নানা কারণে সেখানে যাচ্ছে না অনেকে। ফলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় রোগীদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। কয়েক গুণ বেশি অর্থ খরচ করেও বেসরকারিভাবে ডেঙ্গু (এনএস-১) টেস্ট করাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের বিবি রোডে অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সহকারী ব্যবস্থাপক বাবর জানান, প্রতিদিন শত শত রোগী জ¦র নিয়ে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাচ্ছে। গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে। অবশ্য গত এক মাসে কী পরিমাণ পরীক্ষা হয়েছে ও কী পরিমাণ আক্রান্ত হয়েছে, সেই তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
নারায়ণগঞ্জ শহরের বালুরমাঠে অবস্থিত মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার সাইফুল্লাহ টিপু জানান, গত নভেম্বর মাসে তাদের সেন্টারের অন্তত পাঁচ হাজার এনএস-১ টেস্ট করিয়েছে। তার মধ্যে ডেঙ্গু পজিটিভ পাওয়া গেছে অন্তত ১ হাজার ৫০০ জন।
বিবি রোডে অবস্থিত মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার হিমেল জানান, প্রতিদিন আনুমানিক ১০০ জনের মতো রোগী এনএস-১ পরীক্ষা করাচ্ছে। তার মধ্যে ডেঙ্গু পজিটিভের হার ২০ শতাংশ।
শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত ল্যাবএইডের ম্যানেজার মাসুমুল হক সোহেল জানান, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী এনএস-১ পরীক্ষা করাচ্ছে। তার মধ্যে ডেঙ্গু পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ১০ জনকে।
জেলার সিভিল সার্জন ড. এ এফ এম মুশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা শুধু সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় আসা রোগীদের তথ্য সরবরাহ করে থাকি। বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এনএস-১ পরীক্ষার তথ্য আমাদের রিপোর্টে নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। হাসপাতালেও রোগীদের চিকিৎসা সঠিকভাবে চলছে।’
নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, ‘নাসিকের মশার ওষুধ ছিটানো, সচেতনতামূলক কর্মসূচিসহ নানা কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঁচজন মশক নিধনকর্মীসহ আমাদের ২০ জনের স্পেশাল টিম রয়েছে, যারা বিভিন্ন স্থাপনায় ডেঙ্গু মশার লার্ভা রয়েছে কি না, সেটা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এ বছর কিন্তু ডেঙ্গু প্যাটার্ন বদলেছে।’
মশার ওষুধ ছিটানোর পরও কেন ডেঙ্গু বাড়ছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক যেমন বেশি খেতে খেতে রেজিস্ট্যান্স হয়ে যায়, তেমনি মশার ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে কি না সেটা গবেষণার বিষয়। আমাদের কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছি, মিশ্রণে ওষুধের পরিমাণটা বাড়িয়ে
দেওয়ার জন্য।’
