খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার প্রধান আসামি হয়ে গেলেন বাদী

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:০২ পিএম

ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের দু’টি বাসে বোমা হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি ছিলেন আবুল কাশেম মিলন। এবার একই ঘটনায় ৭ বছর পর আদালতে নিজে বাদী হয়ে মামলার করেছেন আবুল কাশেম।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে শুনানি শেষে ফেনী সদর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মো. শাফায়াত মামলাটি তদন্ত করে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ২৮ নভেম্বর তৎকালীন ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) এসএম জাহাঙ্গীর সরকারসহ ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মিলন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফেরার পথে খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ফেনীর মহিপালে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। সেসময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। খালেদা জিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারীরা বোমা ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়।

একপর্যায়ে যমুনা পরিবহনের একটি বাস ও চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্টের একটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তখন ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে তৎকালীন পুলিশ আবুল কাশেম মিলন (মামলার বাদী), লক্ষ্মীপুর জেলার নেয়ামতপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুল মালেক ড্রাইভার, বাঞ্ছানগর এলাকার ফারুক ড্রাইভার, নোয়াখালীর চরজব্বর থানার হাজীপুর এলাকার হেদায়েত উল্যাহ ড্রাইভার ও সুধারাম থানার চর শুল­কিয়া এলাকার হারুনুর রশিদকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন– ফেনীর তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আমিনুল ইসলাম, ফেনী মডেল থানার ওসি মো. রাশেদ খান চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করিম উল্যাহ বিকম, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার, ফেনী জেলা যুবলীগের সভাপতি ও দাগনভ‚ঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন, দাগনভ‚ঞা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র ওমর ফারুক খান, ফেনী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আমির হোসেন বাহার, লুৎফুর রহমান খোকন হাজারী, সিরাজুল ইসলাম, ফাজিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মজিবুল হক রিপন, শর্শদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জানে আলম, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিক, ধলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনোয়ার আহমেদ মুন্সি, ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন ফিরোজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হায়দার জর্জ, পৌর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পিটু এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম মোহন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম জানান, আদালতের বিচারক মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তার সহায়তায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।

আবুল কাশেম মিলন বলেন, তৎকালীন পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর সরকার আমার গাড়ি পুড়িয়ে আমাকে প্রধান আসামি করে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। ফেনীর সাবেক এমপি নিজাম হাজারী প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে আমার যমুনা হাই ডিলাক্স পরিবহনের ১৪টি গাড়ি পুলিশ লাইনে নিয়ে যায়। আমাকে জিম্মি করে আওয়ামী লীগ করতে বাধ্য করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত