রাজধানীর মিরপুরে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় আবদুল্লাহ (১৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে মারা যায় সে। বিস্ফোরণে এ নিয়ে চারজন মারা গেল। এর আগে মারা যান আবদুল্লাহর বাবা রংমিস্ত্রি আবদুল খলিল (৪০), তার মা রুমা আক্তার (৩২) ও ছোট ভাই মাদ্রাসা ছাত্র মোহাম্মদ (১০)।
গত ২৪ নভেম্বর ভোরে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার ৫ নম্বর অ্যাভিনিউয়ের সি-ব্লকের ১৬ নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাতজন দগ্ধ হয়। যাদের মধ্যে আবদুল্লাহসহ চারজন মারা গেছে। এখনো দগ্ধ অবস্থায় আর তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার মধ্যে আবদুল্লার চার বছর বয়সী ছোট ভাই ইসমাইলও রয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া বিস্ফোরণে ওই ভবনের ভাড়াটিয়া গার্মেন্টসকর্মী মো. শাহজাহান (২৫) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার পারভিনও (২২) দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে শাহজাহান সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরলেও তার স্ত্রী পারভিন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. শাওন বিন রহমান বলেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল্লাহ মারা গেছে। তার শরীরের ৩৮ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এ ঘটনায় ২০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে তার ছোট ভাই ইসমাইল।
নিহত আবদুল্লাহর চাচাতো বোন নাসিমা আক্তার রূপালী জানান, তাদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার চর বাঙলাবাজার গ্রামে। তিন ছেলেসহ তার চাচা-চাচি মিরপুরের ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। গত ২৪ নভেম্বর ভোরে খবর পান, ওই বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ হয়েছে।
শাহজাহান জানান, ওই রাতে তারা বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাত ৪টার দিকে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। ঘুম ভাঙতেই দেখেন চারদিকে আগুন জ¦লছে। তাদের শরীরে আগুন লেগে গেছে। তখন নিজেরাই বাসার বাইরে বের হন। তিনি আরও বলেন, তাদের বাসায় কোনো গ্যাস সিলিন্ডার নেই। বাসার সামনে দিয়ে গ্যাস লাইন রয়েছে। এর আগে রাস্তার পাশে সেই গ্যাস লাইনে হঠাৎ করে আগুন জ¦লে উঠেছিল। পরে স্থানীয়রা আগুন নেভায়। তার ধারণা, সেই লাইন থেকে লিকেজ হয়ে তাদের রুমের ভেতর গ্যাস জমেছিল।
