জাবিতে ভর্তি পরীক্ষায় ভিসি কোটা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:৪১ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা সংস্কার ও ভিসি কোটা বাতিলসহ চার দাবিতে মানববন্ধন করেছে একদল শিক্ষার্থী। রবিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন ব্যানারে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শোয়াইব হাসান।

মানববন্ধনে উত্থাপিত শিক্ষার্থীদের বাকি দাবিগুলো হলো, অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার আবেদন ফি কমানো।

মানববন্ধনে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ভিসি কোটা ও মুক্তিযোদ্ধা নাতি-নাতনি কোটা প্রজ্ঞাপন দিয়ে বাতিল করতে হবে এবং পোষ্য কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি কোটা থাকতে পারে না। অতীতে যারা ভিসি কোটায় ভর্তি হয়েছিল তাদের অপকর্ম আমরা দেখেছি। যেখানে একজন সাধারণ শিক্ষার্থী ৬০ নম্বর পেয়েও চান্স পায়নি সেখানে ক্ষমতার ব্যবহার করে একটা ফোন বার্তার মাধ্যমে অকৃতকার্য হয়েও অনেকে ভর্তি হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, বিসিএসের মতো পরীক্ষায় আবেদন ফি ২০০ টাকা। আর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরিক্ষায় আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা। যা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় ফি কমিয়ে একটা যৌক্তিক ফি নির্ধারণ করতে হবে। 

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ কোনো প্রকার ভিসি কোটার আইন নেই এবং দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর ছাড়া অন্য কোথাও অথর্ব ভিসি কোটা নাই। পোষ্য কোটায় মাত্র ২৬ নম্বর পেয়ে পাশ না করেও ভর্তির সুযোগ পায়। এই পোষ্য কোটা যৌক্তিক সংস্কার করে নুন্যতম পার্সেন্টেজ মার্ক রাখতে হবে। যাতে ফেইল করে কেউ ভর্তির সুযোগ না পায়। 

গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল ও সংস্কারের কথা বললেও প্রশাসন শুধু মৌখিক আশ্বাস দেয়। আমরা চাই প্রজ্ঞাপন দিয়ে কোটার সংস্কার করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, খুবই লজ্জার সাথে বলতে হয় গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীতে যেখানে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা হওয়ার কথা সেখানে বৈষম্য দূর করতে এখনও আমাদের দাঁড়াতে হচ্ছে। মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বৈষম্য দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত