২০২৫ সালের জন্য একটি সংশোধিত সরকারি বাজেট বিল পাস করার কথা জানিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল। গতকাল মঙ্গলবার একথা নিশ্চিত করেছে বিরোধী দল। এই বাজেটের সূত্র ধরেই প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে গত সপ্তাহে সামরিক শাসন জারির চেষ্টা করেছিলেন। বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা লি জে মিউং বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বাজেট বিল পাস করলে বর্তমান অনিশ্চয়তা ও সংকট সমাধানে তা সহায়তা করবে।
গত মাসে সরকারের প্রস্তাবিত ৬৭৭ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ওন (দক্ষিণ কোরীয় মুদ্রা) বা ৪৭৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজেট থেকে ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ওন কাটছাঁট করে বিরোধী দল নিয়ন্ত্রিত দেশটির সংসদ। যার সূত্র ধরেই দেশটিতে এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সরকারের অভিযোগ, এই বাজেট কর্তন প্রশাসনের মৌলিক কার্যক্রমকে অচল করবে, আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাঘাত ঘটাবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য নীতিমালা বাস্তবায়ন বিলম্বিত করবে। তবে ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা পার্ক চ্যান ডে বলেন, যদি মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন হয়, তা অতিরিক্ত বাজেটের মাধ্যমে সমাধান করা যাবে।
ডিসেম্বর ৩ তারিখে প্রেসিডেন্ট ইউন বিরোধী দলের বাধাকে দমন করার অজুহাতে সামরিক আইন ঘোষণা করেন। এতে এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে মারাত্মক সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ট্রেজারি বন্ড বাজার দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিন বছরের ট্রেজারি বন্ড ফিউচার শূন্য দশমিক ১০ পয়েন্ট কমে ১০৬ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে ডাইশিন সিকিউরিটিজের ফিক্সড ইনকাম বিশ্লেষক কং ডং-রাক বলেছেন, বাজেট চূড়ান্ত হলে অনিশ্চয়তা কমবে বলে আশা করা যায়। তবে অতিরিক্ত বাজেট নিয়ে মন্তব্যগুলো বাজারকে সংবেদনশীল করে তুলছে। চলমান এই পরিস্থিতি দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
