কুমারখালীতে দুজনকে কুপিয়ে ৭ গরু লুট

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:১৬ এএম

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে চলন্ত পিকআপ থামিয়ে দুজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সাতটি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বুধবার ভোরে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের সদকী ইউনিয়নের ফুলতলা মৎস্য হ্যাচারির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর থানার পাচড়া এলাকার জনি শেখ (৩৬) ও হৃদয় হোসেন (৩৩)।

এ ঘটনায় পিকআপচালক সজীবকে (৩৪) সন্দেহ করছেন গরুর মালিক নাজমুল। সজীব দিনাজপুরের রুস্তমপুর এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে। তাকে কুমারখালী থানায় রাখা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে একই সড়কের চাপড়া ইউনিয়নের দবিরমোল্লা গেট এলাকায় পিকআপ থামিয়ে চোখে মরিচের গুঁড়ো দিয়ে পাঁচটি গরু ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

জানা যায়, গোপালগঞ্জের নাজমুল, জনি ও হৃদয় দিনাজপুরের আফতাবগঞ্জ পশুহাট থেকে গত মঙ্গলবার বিকেলে আটটি বাছুর গরু কিনে ভাড়া করা পিকআপে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে চার-পাঁচজন ডাকাত পিকআপের সামনে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে তাদের গতিরোধ করে। এরপর ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গরুর মালিক জনি ও হৃদয়ের কাঁধে-পিঠে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করলে অন্য গরুর মালিক নাজমুল ভয়ে মাঠের মধ্যে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে ‘৯৯৯’-এ কল দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে। তবে এরই মধ্যে ডাকাতদল সাতটি গরু নিয়ে পালিয়ে যায়। তবে চালক সজীবকে কোনো আঘাত করেনি ডাকাতরা।

গরুর মালিক নাজমুল বলেন, ‘আমরা তিনজন দিনাজপুর থেকে আটটি গরু কিনে পিকআপ ভাড়া করে বাড়ি ফিরছিলাম। পথে কুমারখালীর মৎস্য হ্যাচারির সামনে ডাকাত আমাদের ওপর আক্রমণ করে। তখন আমি দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে ৯৯৯-এ কল দিই। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করলেও ডাকাতরা সাতটি গরু নিয়ে গেছে।’

তার ভাষ্য, ‘গাড়িচালক সজীব সারাপথ বিভিন্নজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং কখন কোথায় আছি তা জানিয়েছেন। আবার ডাকাতরা চালককে কোনো আঘাতও করেনি। এ ঘটনায় চালক জড়িত। থানায় মামলার এজাহার দিয়েছি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ হেফাজতে থাকা চালক সজীব জানান, তিনি প্রথমবারের মতো গরু তুলেছেন গাড়িতে। ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত