বাংলাদেশের মানুষ আর কারও চোখ রাঙানিকে পরোয়া করে না মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, পতিত সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এত ক্ষতি অন্য কোনো দলের হয়নি। আমরা এ পর্যন্ত সারা দেশে পাঁচশর বেশি সহকর্মীকে হারিয়েছি। হাজার হাজার মামলা দিয়ে লাখ লাখ মানুষকে জেলে নেওয়া হয়েছে। কার্যত আমাদের বাড়িই জেলে পরিণত হয়েছিল। জেলের ভেতরেও জেল, বাইরেও জেল। গোটা দেশটাকেই একটা কারাগারে পরিণত করা হয়েছিল। সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের বিপ্লবে জাতির বিরুদ্ধে তৎকালীন সরকার যুদ্ধ করেছে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন দেশে কারারুদ্ধ বাংলাদেশিদের মুক্ত করার ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগী হতে হবে। দেশের মানুষ আর কারও চোখ রাঙানিকে পরোয়া করে না। জাতীয় স্বার্থের জায়গায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচনের নামে প্রহসন করায় দেশের মানুষ ভোটের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। অসংখ্য যুবক-যুবতীর বয়স হয়েছে ভোট দেওয়ার। কিন্তু তারা ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। নির্বাচনের প্রতি তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। এজন্য আমরা যৌক্তিক সময় দেওয়ার পক্ষে। বিলম্বিত বা দীর্ঘায়িত সময় নয়, যৌক্তিক সময় দিতে চাই। পাশাপাশি এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে প্রবাসী ভাইয়েরা আমাদের সঙ্গে সমান তালে যুদ্ধ করেছেন। আমরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাদেরও ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন প্রয়োজন।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম মৌলিক দুটি বিষয়ের একটি হলোÑ রাষ্ট্রের সব প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, বিগত সরকার জুলুম করে বহু জায়গায় তৎকালীন বিরোধী দলে যারা ছিলেন তাদের এলাকাগুলোকে টার্গেট করে আসন সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। তারা আসন পুনর্বিন্যাসের নামে জুলুম করেছে। এগুলোকে আবার পুনর্বিন্যাস করা লাগবে বিবেক ও বাস্তবতার আলোকে।’
