তারুণ্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির টুর্নামেন্ট

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:৪৮ এএম

জাতীয় লিগের চার দিনের টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন কোচ সিলেট বিভাগের রাজিন সালেহ। কয়েক দিনের ব্যবধানে পুরোপুরি ভিন্ন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের প্রতিযোগিতায় খেলছে তার ক্রিকেটাররা। দুই ম্যাচের একটিতেও জয়ের দেখা নেই। এই টুর্নামেন্টের ঝাঁজ, ভবিষ্যতের প্রভাব এসব নিয়ে কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের রাফিদ চৌধুরীর সঙ্গে

দুই ম্যাচ খেলে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি সিলেট। এটা কি ফরম্যাট বদলের কারণে?

রাজিন সালেহ : আসলে আমাদের সিলেট বিভাগ দলটা তারুণ্য দিয়ে গড়া। তারা সবাই ভালো, প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময়ী ক্রিকেটার। তবে তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। যেহেতু বেশিরভাগই তরুণ। যদিও তাদের ম্যাচ জেতানোর মতো সামর্থ্য আছে। ম্যাচ হারলেও আমি তাদের ওপর খুশি, কারণ আমরা যে পরিকল্পনা নিয়ে খেলতে নেমেছিলাম সে অনুযায়ীই তারা খেলেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটসম্যানরা একটু তাড়াহুড়ো করেছে, তবে তাদের ইনটেন্ট নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। 

প্রথম ম্যাচে ২০৫ রান করেও জিততে পারেনি! শেষ বলের আগে অবধি মনে হয়েছিল সিলেটেরই জেতার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু হয়নি, কোথায় ঘাটতি বলে মনে করেন?

রাজিন: ঘাটতি আসলে অভিজ্ঞতায়। শুভাগত ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সেখানে তোফায়েল আহমেদ নবীন। এই ধরনের ম্যাচে স্নায়ুর চাপ সামলানো অনেক বড় একটা বিষয়। তাছাড়া ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করে বল করাটাও জরুরি। তোফায়েল সেটা পারেনি।  শুভাগত অভিজ্ঞ বলেই জানে বোলার কোনদিকে বল করতে পারে, সেটা বুঝেই সে শট খেলেছে এবং ম্যাচটা জিতেছে।

এই টুর্নামেন্ট দেশের ক্রিকেটের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কতটা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন?

রাজিন : এই টুর্নামেন্ট দেশের ক্রিকেটে একটা বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ ক্রিকেটার তৈরিতে। আমরা জাতীয় লিগের চার দিনের ম্যাচ শেষ করেই খেলতে নামতাম বিপিএলে। সেখানে দেশীয় ক্রিকেটারের চেয়ে বিদেশিদের পারফরম্যানসের আধিপত্যই বেশি দেখা যায়। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত প্রতিটি দল দুটি করে ম্যাচ খেলেছে, অধিকাংশ ম্যাচেই আমরা লড়াই দেখতে পেয়েছি। ঘরোয়া অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সঙ্গে তারুণ্যের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি হচ্ছে। এতে দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এই টুর্নামেন্টকে অনেকে বলছেন বিপিএলের প্রস্তুতির মঞ্চ। তবে এটা শুধু বিপিএল না, জাতীয় দলের ক্রিকেটার তৈরিতেও ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।   

যেহেতু এবার নতুন একটি বোর্ড দায়িত্ব নিয়েছে। তারা যথেষ্ট সময়ও পাননি। তার মধ্যেও যতটুকু সময় পেয়েছেন সেটার সর্বোচ্চ দিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের চেষ্টা করেছেন। বোর্ডে যেহেতু ফারুক ভাই ও ফাহিম স্যারের মতো ক্রিকেটের মানুষরাই আছে, তাই আমরা আশা করব আগামী আসরে এনসিএল টি-টোয়েন্টি আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।

এমন প্রতিযোগিতামূলক লড়াই আমরা বিপিএলেও কম দেখি। কিন্তু এনসিএল টি-টোয়েন্টির প্রায় সব ম্যাচই হয়েছে টানটান উত্তেজনার। এটার কারণ কি উইকেট? সেটাই যদি হয় সিলেটের প্রধান স্টেডিয়ামের উইকেট বরাবরই স্পোর্টিং। তবে একাডেমি স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল স্পিন নির্ভর। সেখানেও এবার দেখা যাচ্ছে রান হচ্ছে? এই পরিবর্তন আসলে কীভাবে এসেছে?

রাজিন : অবশ্যই। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে স্পোর্টিং উইকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে সেটা এবার দুটো গ্রাউন্ডে এ ধরনের উইকেট দেওয়া হয়েছে। যা প্রত্যেকটা ম্যাচকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। ২০৫ রান করেও কোনো দল নিরাপদ থাকতে পারছে না। এটাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট। তাছাড়া চার দিনের ম্যাচেও এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উইকেট পেয়েছি আমরা। আর স্টেডিয়ামগুলো স্পোর্টিং হচ্ছে কারণ আমাদের স্থানীয় কিউরেটররা এখানে কাজ করছেন। এর আগে যে ভারতীয় একজন কিউরেটর ছিলেন, তিনি গ্রাউন্ডটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের স্থানীয় গ্রাউন্ডসম্যানরা উইকেটকে আসল চরিত্রে ফিরিয়ে এনেছেন। তাই সবগুলো গ্রাউন্ডসে দেশি কিউরেটর রাখার পক্ষে আমি। কারণ তারা এখানকার আবহাওয়ার চরিত্র জানেন, তারা জানেন কোন মৌসুমে কী উপায়ে উইকেটের চরিত্র একই রাখা যায়।

জিসান আলমদের কেমন দেখছেন?

রাজিন : জিসান জন্মগত প্রতিভাবান এক ক্রিকেটার। এই প্রজন্মে এ রকম প্রতিভা আমি কমই দেখেছি। তার হাতে যে স্ট্রোক আছে আমাদের দেশের বাস্তবতায় এটা অসাধারণ। শুধু জিসান না, তৌফিক খান তুষার, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, তোফায়েল আহমেদ, ওয়াসিফ আকবররা অসাধারণ প্রতিভা। তাদের যতœ নিলে এরাই আগামী দিনে দেশের ক্রিকেটের সম্পদ হয়ে উঠবে। খেলার স্বাধীনতা পেলে এরা যে কী করতে পারে সেটা আমি দুই ম্যাচে কিছুটা আভাস পেয়েছি।

সিলেট কি এখনো ক্রিকেটে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি? সিলেট দলে লোকাল ক্রিকেটারের সঙ্গে সিলেটি নন এমন ক্রিকেটারও খেলছেন? এটা কি বোর্ড থেকে দেওয়া হয়? নাকি আপনাদের চাহিদা থাকে?

রাজিন : পেস ইউনিটে সিলেট দেশসেরা। হয়তো আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে সব পেসারকে সিলেট দলে জায়গা দেওয়াই কঠিন হয়ে যাবে। সংখ্যাটা প্রতি বছরই বাড়ছে। এর বাইরে ব্যাটিং ইউনিটে আমাদের শক্তি কোথায়? জাকির হাসান, জাকের আলী অনিক, তুষার, গালিব, এদের বাইরে ব্যাটসম্যান কোথায় সিলেটের! নেই কিন্তু। তো যেসব জায়গায় ঘাটতি থাকে বিসিবির নির্বাচক প্যানেল তদারকি করে সেটাই পূরণ করে দেয়। এটা সিলেটের বেলাতেই না। যেকোনো অঞ্চলের ক্ষেত্রেই তারা সেটা করেন। আর তারা তো বাংলাদেশের ক্রিকেটারই। সিলেটের কোনো ক্রিকেটার যদি অন্য অঞ্চলে গিয়ে খেলে ভালো পারফরম্যানস করে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয় সেটা তো বাংলাদেশেরই প্রাপ্তি। তেমনি অন্য অঞ্চল থেকে সিলেটে এসে ভালো খেলে জাতীয় দলে প্রবেশ করলেও সেটা আমাদের নিজের দেশেরই অর্জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত