চিরনিদ্রায় প্রেম দ্রোহের কবি হেলাল হাফিজ

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:০১ এএম

দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নানা শ্রেণি পেশার মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রেম ও দ্রোহের কবি হেলাল হাফিজ। গতকাল শনিবার বাংলা একাডেমি ও জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে দুই দফায় জানাজা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেল ৩টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী, গতকাল রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুকই আজম, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজমসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন কবির ভাই দুলাল আবদুল হাফিজ। জানাজা শেষে প্রয়াত হেলাল হাফিজের প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে কবির পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এরপর সেখান থেকে মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে। এই প্রেস ক্লাবেই কেটেছে কবির জীবনের অধিকাংশ সময়। বাদ জোহর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং কবি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ। জানাজা শেষে সংস্কৃতি উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রয়াত হেলাল হাফিজের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বাংলা একাডেমিতে কবি হেলাল হাফিজকে শ্রদ্ধা জানানোর পর সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি জগৎ তার শূন্যতা বোধ করবে। এক বইতেই তিনি সংস্কৃতিতে তার অবস্থান চিরস্থায়ী করে গেছেন।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, ‘হেলাল হাফিজ তার কবিতাতেই বেঁচে থাকবেন। তবে কবি হেলাল হাফিজকে নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কী কী দায়িত্ব আছে, তা নিয়ে কাজ করা হবে আমি নিশ্চিত, আপনারা দ্রুত কিছু শুনবেন।’

সাংবাদিকের আরেক প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, ‘কবি হেলাল হাফিজের অসমাপ্ত পা-ুলিপি থাকলে বাংলা একাডেমি বের করবে। আরেকটি বিষয়, যদিও আমি মনে করি, কবি কখনো কোনো পদক বা পুরস্কারের জন্য কিছু লেখেননি। কিন্তু পুরস্কার দিতে হয় তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য। হেলাল হাফিজকে তো আমরা একুশে পদক বা স্বাধীনতা পুরস্কার কখনোই দিইনি। কিন্তু এটি দেওয়াটা জাতির দায়িত্ব ছিল। এর ফলে এ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কী করার আছে, আমরা সেটা দেখব।’

মরণোত্তর পদকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রসঙ্গ টেনে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যেমন বললেন, মরণোত্তর পদক দেওয়ার ব্যাপার আছে। এখনই কিছু ঘোষণা করতে চাই না। কিন্তু আপনারা নিশ্চয়ই আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে সেটা জানবেন।’

কবি হেলাল হাফিজের জন্ম ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায়। গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের সুপার হোম নামে একটি হোস্টেলে ওয়াশ রুমে পড়ে মাথায় আঘাত পান হেলাল হাফিজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হেলাল হাফিজ দীর্ঘদিন ধরে গ্লুকোমায় আক্রান্ত ছিলেন। পাশাপাশি কিডনি জটিলতা, ডায়াবেটিস ও স্নায়ু রোগে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত