জামায়াত আমির বললেন

যারা স্বাধীনতা বিক্রি করেছে তারাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:১৯ এএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিক্রি করে দিয়েছে, তারাই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। তারা যে দেশের আদর্শ ধারণ ও লালন করে, সে দেশেই চলে গেছে। জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে দেশ বিগত দিনের মতো বিক্রি হবে না।’

গতকাল সোমবার সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘শেখ হাসিনা এ দেশে ফিরে এসেছিলেন শুধু তার বাবা হত্যার প্রতিশোধ নিয়ে ভারতের কাছে বাংলাদেশের ভূখ- ক্ষমতার বিনিময়ে বন্ধক দিতে। শেখ মুজিবকে কারা হত্যা করেছে? স্বাধীনতার সপক্ষের সেনাসদস্যরা হত্যা করেছে। কেন করেছে? কারণ শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বেরিয়ে বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ দেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের যাত্রা শুরু করেছিল। তার কন্যাও পরে ভারতের তাঁবেদারি করতে এ দেশের আলেম-ওলামা, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ জনগণকে হত্যা করেছে।’

শেখ হাসিনা পরিবারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘একটি পরিবার স্বাধীনতার ক্রেডিট হাইজ্যাক করে বাংলার আপামর জনতাকে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করেছিল। স্বাধীনতা বিক্রি করা আওয়ামী লীগ এখন ভারতে পালিয়ে আছে। যে জাতি তাদের উচিত শিক্ষা দিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, সে জাতি তাদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে প্রস্তুত।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল ১৯৭১ সালে কিন্তু শোষণ থেকে মুক্তি পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। ২৪- এর স্বাধীনতা যেন কেউ হাইজ্যাক করে না নিতে পারে, এজন্য বাংলার ১৮ কোটি মানুষকে পাহারা দিতে হবে।’

জিয়াকে স্বাধীনতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি কেন প্রশ্ন রেখে জামায়াতের আমির বলেন, ‘স্বাধীনতা ছিনতাই করে এক পরিবারের সম্পদ বানানো হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান কবে, কোথায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি এ দেশের কারও জানা নেই। ৭ মার্চ যদি শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতাসংগ্রামে ডাক দিয়ে থাকেন, তাহলে ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে শেখ মুজিবুর রহমান নিজের বাসভবনে কেন পাকিস্তানের পতাকা ঝুলিয়েছেন? তৎকালীন ছাত্ররা সেই পতাকা খুলে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘এই পল্টন ময়দানে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি- বইঠা দিয়ে মানুষকে সাপের মতো পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের বক্তব্য ছিল “বুকের ভেতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর” তুমুল ঝড় এ দেশের ১৮ কোটি জনগণের বুকের ভেতরের ঝড়। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সব হত্যাকা-ের সঠিক তদন্ত ও ন্যায়বিচার করা হবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সমাবেশ রূপ নেয় জনসমুদ্রে! সকাল ১০টায় সমাবেশ শুরুর নির্ধারিত সময়ের আগেই পল্টন মোড় থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত বিজয় সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মী ও জনসাধারণের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে। সমাবেশ শেষে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিজয় শোভাযাত্রা পল্টন মোড় থেকে প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন মোড়, কাকরাইল মোড় হয়ে আবার পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়। বিজয় শোভাযাত্রায় লক্ষাধিক মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির ও অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, কামাল হোসেন, ড. আব্দুল মান্নান, ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি মুজাফফর হোসেন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত